Girl in a jacket

সূর্যের রং কোন কোন সময় লাল কেন?

0

এমন প্রশ্ন নিশ্চয়ই আপনার মনে জেগেছে এই সূর্যের রং কেন লাল? আপনি কি সম্প্রতি সূর্যোদয়ের সময় আলাদা কিছু লক্ষ্য করেছেন?

আবহমান কাল ধরে এটাই সত্যি। এটাই আমরা জানি যে, সূর্য যখন ওঠে কিংবা অস্ত যায়, তখন কখনও কখনও তার রং হয় লাল। ওই লাল সূর্যের আভায় আকাশেও তখন অপূর্ব রক্তিম বা কমলা রং ধরে, কখনও বা তার মধ্যে বেগুনি আভায় দেখা যায়। 

কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না কেন সময়ে সময়ে সূর্য এই লাল রং ধারণ করে। 

গোধুলি বেলার এই রংয়ের খেলা নিয়ে কত গান বাধা হয়েছে, কত কবিতা লেখা হয়েছে, এ নিয়ে রোমান্টিকতার শেষ নেই। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে শুদ্ধ ও শুষ্ক বিজ্ঞান। 

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, সম্প্রতি পৃথিবীর কোন কোন জায়গায় সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের সময়টাতে নানা রংএর বিচ্ছুরণ আকাশকে অপূর্ব দৃশ্যময় করে তুলেছে। আকাশে এখন লাল সূর্য আর রং-এর খেলা দেখা যাচ্ছে আগের তুলনায় বেশি। 

তাই আবহমান কালের এই রোমান্টিক আলোর জগতের পেছনে বিজ্ঞানের বাস্তবতা কী, সেটাই জেনে নেব জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে। 

আলোয় ভুবন ভরা

কালো পাহাড়ের পটভূমিতে গাঢ় লাল আর কমলা রংএর মেঘ
ছবির ক্যাপশান, পৃথিবীর কোন কোন জায়গায় সম্প্রতি সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের সময়টাতে নানা রংএর বিচ্ছুরণ দেখা যাচ্ছে যা এ সময়ের আকাশকে অপূর্ব দৃশ্যময় করে তুলছে

আকাশে এমন অপরূপ দৃশ্যের একটা ব্যাখ্যা হল র‍্যালে স্ক্যাটারিং – পদার্থবিদ র‍্যালের নীতি অনুযায়ী বিচ্ছুরিত আলো ভেঙে ছড়িয়ে পড়া।

“এটা হল পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল দিয়ে সূর্যের আলো যখন প্রবাহিত হয়, তখন সেটা যেভাবে আমাদের চোখে ধরা দেয়,” বলছেন গ্রেনিচের রয়াল মিউজিয়ামের জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড ব্লুমার। 

বিষয়টা বুঝতে গেলে প্রথমে আলোর উপাদানটা জানতে হবে। আমরা চোখে যে আলো দেখি তাতে আমরা জানি সাতটা রং আছে- লাল, কমলা, হলুদ, সবুজ, নীল, গাঢ় নীল এবং বেগুনি।

মি. ব্লুমার বলছেন, “সূর্যের রংএর ক্ষেত্রে এই হেরফের ঘটে যখন সূর্যালোক ভেঙে ছড়িয়ে যায়। যখন আলোর কণাগুলো ভাঙে সেগুলো সমানভাবে ভাঙে না – ভাঙে এলোমেলো ভাবে।” 

আলোর মধ্যে প্রত্যেকটা রং-এর ওয়েভলেংথ বা তরঙ্গদৈর্ঘ্য আলাদা আর সে কারণেই তাদের তরঙ্গদৈর্ঘ্য অনুযায়ী তাদের রং-এর তীব্রতায় কমবেশি হয়। 

যেমন বেগুনি রং-এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, আর লালের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি। ফলে কোন্ রং কোন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে প্রবাহিত হচ্ছে তা নির্ধারণ করবে আমরা কীভাবে সেই রংগুলোর বিচ্ছুরণ প্রত্যক্ষ করব। 

এরপর আমাদের আবহাওয়া মণ্ডলের বিষয়টা বুঝতে হবে। যে আবহাওয়ামণ্ডল বা বায়ুমণ্ডলে রয়েছে নানাধরনের গ্যাসের স্তর, যার মধ্যে রয়েছে অক্সিজেনও, যেটাতে আমরা শ্বাস নিই এবং যেটা আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য।

সূত্র – বিবিসি বাংলা

Share.

Comments are closed.