Girl in a jacket

ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন গফরগাঁওয়ের জনপ্রিয় ছাত্রদল নেতা মোক্তার

0

গফরগাঁও প্রতিনিধি:-
গফরগাঁও উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক পদপ্রার্থী হওয়ায় জনপ্রিয় এক ছাত্র নেতাকে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দিয়ে কোনঠাসা করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিরোধীদলের রাজনীতি করার কারণে ২৫ মামলার আসামী হওয়া সত্বেও কোনো ইস্যু ছাড়াই নতুন করে আবারো মামলা দেয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আলোচিত ছাত্রদল নেতা মো. মোক্তার হোসেন গফলগাঁও থানার নতুন মামলায় গ্রেফতার এড়াতে বর্তমানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের ইন্দনে পূর্ব শত্রুতার জের হিসেবে ময়মনসিংহ আদালতের একজন আইনজীবীর সহকারী আলী হোসেন খান গত ২১ জানুয়ারি গফরগাঁও থানায় মোক্তার হোসেনকে প্রধান আসামী করে মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আরজিতে বসত বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও চুরির মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। যে সময়ে ঘটনা সংঘটন দেখানো হয়েছে তখন মোক্তার হোসেন এলাকায়ই ছিলেন না। অথচ তাকে ১ নম্বর আসামী করে থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে। পুলিশও কোনো রকম পূর্ব তদন্ত ছাড়াই মামলাটি এফআইআরভুক্ত করেছে। যার মামলা নম্বর ১৪, ধারা ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩৮০/৪২৭/১১৪/৫০৬ পেনাল কোড।
মামলার এজাহারে বাদী আলী হোসেন উল্লেখ করেন যে, গত ২০ জানুয়ারি সকাল ৭টায় মোক্তার হোসেনের নেতৃত্বে এজাহার নামীয় আরো ৩ জনসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে বাড়ির গেট ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে এবং আলমিরার তালা ভেঙ্গে নগদ তিন লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেয়। এছাড়া আসামীরা বাসার বাথরুম, দরজা ও গেট ভাংচুর করে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে আলী হোসেনের বাড়িতে এধরণের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। ভাংচুরেরও কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। আলী হোসেনের প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারাও এটিকে রহস্যজনক ঘটনা বলে মন্তব্য করেন। কথিত ঘটনার সাথে মোক্তার জড়িত না।
এব্যাপারে আলী হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য জানতে তাদের বাড়িতে গিয়ে আলী হোসেনের ছোট ছেলে রিফাত ছাড়া কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। রিফাতের কাছে ঘটনা জানতে চাইলে মোক্তারের নেতৃত্বে তাদের বাড়িতে হামলা হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন। কেন ভাংচুর করেছে জানতে চাইলে তিনি এব্যাপারে কিছু জানেন না বলে দাবী করেন।
এব্যাপারে গফরগাঁও থানার ওসি অনুকূল সরকার বলেন, কেউ থানায় অভিযোগ দিলে মামলা হতেই পারে। মামলা হওয়ার পর তদন্তে ঘটনার সত্যতা না পেলে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে আসামীদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আবেদন করা হবে।
এব্যাপারে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মঞ্জুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তদন্তে ভাংচুরের কোনো আলামত পাইনি, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুটের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বাদী-বিবাদী উভয়পক্ষ পরস্পর আত্মীয় ও তাদের মধ্যে পূর্ব বিরোধ রয়েছে।
গফরগাঁও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ন আহŸায়ক আব্দুল আজিজ সাদেক বলেন, মোক্তার হোসেন একজন উদীয়মান ছাত্রনেতা, সে আমাদের উপজেলা ছাত্রদলের আগামী দিনের উজ্জল ভবিষ্যত। এলাকায় সে ব্যাপক জনপ্রিয়। তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে পদপদবি থেকে বঞ্চিত করতে একটি মহল আধাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে এবং বিভিন্ন অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।
এদিকে এব্যাপারে ছাত্রদল নেতা মোক্তার হোসেন বলেন, আমার জানামতে আমি কখনো কারোর কোনো ক্ষতি করি নাই। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ব্যর্থ একটি মহল আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। একের পর এক মামলার আসামী হওয়ায় তাকে প্রতি মাসেই একাধিকবার আদালতে হাজিরা দিতে হয়। মামলার কারণে তিনি দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর এলাকার বাইরে অবস্থান করছেন।

Share.

Comments are closed.