Girl in a jacket

যুদ্ধাপরাধী এ এফ এম ফয়জুল্লাহ গ্রেফতার

0


গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রাপ্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করে পাগলা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত এ এফ এম ফায়েজুল্লাহ ওরফে আবুল ফালাহ (৬৬) গফরগাঁও এর সাধুয়া গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৪ সালে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রাপ্ত হন তিনি।
পাগলা থানার অফিসার ইন চার্জ মোঃ রাশেদুজ্জামান বলেন, গত ১১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার কার্যক্রম শুরুর আগেই পলাতক আসামী এ এফ এম ফয়জুল্লাহ ট্রাইব্যুনালের গেইটে এসে দাবি করেন তিনি এ মামলার আসামি। পরে তার পরিচয় নিশ্চিত করে প্রাথমিকভাবে ৫৪ ধারায় শাহবাগ থানা পুলিশ গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাগলা থানায় হস্তান্তর করে।ট্রাইব্যুনাল যে তিনজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে, তাদের মধ্যে এ এফ এম ফয়জুল্লাহ একজন।
উল্লেখ্য,১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নের সাধুয়া গ্রাম ও টাঙ্গাব ইউনিয়নের রৌহা গ্রামে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যার মত অপরাধে যুক্ত হন। ১৯৭২ ও ১৯৭৩ সালে এ সব ঘটনায় ফাইজুল্লাহ এর বিরুদ্ধে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে গফরগাঁও থানায় ৮ টি মামলা দায়ের করা হয় । ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ২৫ অক্টোবর তারিখে ফাইজুল্লাহকে এসব মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর ফাইজুল্লাহ ঢাকার মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকায় বসবাস শুরু করেন। এই মামলা দায়েরর পর সে আত্মগোপনে চলে যায়। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর সহযোগি, শান্তি কমিটি, রাজাকার, আল বদর, আল শামসদের প্রাপ্ত তালিকায় নিগুয়ারি ইউনিয়নের তালিকায় ফাইজুল্লাহ’র নাম ২৫৪ নং ক্রমিকে ছিল।
২০১৪ সালে সাধুয়া গ্রামের মরহুম আফাজ উদ্দিন বাদী হয়ে তার নামে মানবতাবিরোধী মামলার দায়ের করে।গত বৃহস্পতিবার(১২ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় ঘোষণা করে।এ মামলায় অভিযোগ করা হয় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ৯ আসামি রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। এ মামলার নয় আসামির মধ্যে পাঁচজন রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আর বাকি চার আসামিকে পলাতক দেখিয়েই এ মামলার বিচারের রায় ঘোষণা করে।গফরগাঁও ও ভালুকার তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড, পাঁচ আসামিকে ২০ বছর করে কারাদণ্ড এবং একজনকে খালাস দিয়েছে যুদ্ধাপরাধ আদালত।

এদিকে যুদ্ধাপরাধি রাজাকার ফইজুল্লাহ গ্রেফতার ও আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে রায়ে একাত্তরের রাজাকারদের শাস্তি হওয়ায় নিগুয়ারি ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধাদের রায়ে শুক্রবার বাদ জুম্মা সাধুয়া গ্রামে শুকরিয়া মিলাদ আয়োজন ও মিষ্টি বিতরন করা হয়।

Share.

Comments are closed.