Girl in a jacket

ভালুকা সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

0

স্টাফ রিপোর্টার, দিগন্তবার্তা, ২ ফেব্রয়ারীঃ-
ময়মনসিংহের ভালুকা সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পারিবারিক বিরোধপূর্ণ জমি দলিল রেজিস্ট্রি না করতে লিখিত আবেদন দেয়ার পরও এজলাসে না বসে খাস কামরায় বসে মোটা অঙ্কের অনৈতিক সুবিধা নিয়ে হেবা দলিল রেজিস্ট্রিসহ কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সরকারী খাস ও বনবিভাগের একাধিক জমি রেজিস্ট্রিরও অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে ও অনুসন্ধানে জানা যায়, ভালুকা মৌজার এসএ ২৮৮ নম্বর, বিআরএস ৪৫৩৮ নম্বর দাগে ৮.০৬ শতংক জমি দলিল লেখক জান্নাতুল ফেরদৌসের যোগসাজশে যেখানে সর্বোচ্ছ ৪ হাজার টাকার বেশি না লাগার কথা সেখানে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে দলিল (নম্বর-৬২৬৮) রেজিস্ট্রি করেন সাবরেজিস্ট্রিার বোরহান উদ্দিন সরকার। দলিলটিতে যাদের চিনাস উল্লেখ করা হয়েছে, তারাও দলিল লেখক এবং তারা আদৌ রেজিস্ট্রিকৃত জমিটি চিনেন না এবং তারা পাশের ভরাডোবা ইউনিয়নের বাসিন্দা। পারিবারিক বিরোধ মিমাংসা হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ওই জমিটি রেজিস্ট্রি না করার ব্যাপারে এক পক্ষ লিখিত আবেদন করলেও তিনি মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে রেজিস্ট্রি করে দেন ওই জমিটি।
এদিকে উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের ধলিকুড়িঁ মৌজার ৩০ নম্বর এস,এ খতিয়ান (ফরফিটেড), দাগ নম্বর সি,এস/এস,এ ৩১, ৩৭, ৪৫, ২৬৪, ২৯৯ নম্বর যাহা বহুদিন পূর্বে জেলা প্রশাসকের আদেশ সরকারী খাস ঘোষণা করা হইয়াছে। ফরফিটেড খতিয়ানের জমি ১৯৭১ সালে যুদ্ধচলাকালিন সময়ে নান্দাইল সাব রেজিস্ট্রি অফিস আগুনে পুড়ে যাওয়ায় জালিয়াত চক্র ভূয়া দলিল বানায় যাহার সন ১৯৬৪ দলিল নম্বর- ৪৮৯২, ৫১৯৯, ৫২১৮, ২৯৮২, ৫০৮৭। উল্লে¬খিত দলিল সমূহের কোনটিই রেজিস্ট্রি অফিস হইতে নকল উত্তোলন করা সম্ভব হয় নাই। ওই সকল ভূয়া দলিল দ্বারা বি,এস রেকর্ড দেখিয়ে অবৈধ ভাবে জমির মালিকানা দাবি করে। জমি রেজিস্ট্রির সময় হাল সনের খাজনার দাখিলা বাধ্যতামূলক থাকলেও তহসিল অফিস হইতে খাজনার দাখিলা কাটা সম্ভব হয়নি। জালিয়াত চক্রটি ভূয়া খাজনার চেক তৈরি করে ১১ নভেম্বর ২০ তারিখে দলিল নম্বর ৭৭৮৭ মূলে ১১ একর ১০ শতাংশ জমি ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা মূল্যে দেখিয়ে সরকারী খাস জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। যার ইদ্দিস আলী ঢালীকে দাতা দেখিয়ে দলিল লেখক এস.এম মেহেদী হাছান স্বপন এর লাইসেন্স ব্যবহার করে ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার রোড নম্বর ৬, বাড়ি নম্বর ৫৫ বাসিন্দা মেসার্স সয়েল সীড লিমিটেডের পক্ষে ব্যাবস্থাপনা পরিচালক আলী হায়দার রতন এর নামে দলিলটি রেজিস্ট্রি হয়।
তাছাড়া ধলিকুড়ি মৌজার ৩০ নম্বর এস,এ খতিয়ান (ফরফিটেড), দাগ নম্বর সি,এস/এস,এ ৪৫,৩১ নম্বর ১৯৬৪ সনের ভূয়া দলিল নম্বর ৪৮৯২, ৫০১২, ৫০৮৭ দেখিয়ে উল্লে¬খিত একই কায়দায় জালজালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র ও খাজনার দাখিলা তৈরি করে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০ তারিখে ১৮ একর ৩ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করেন। যার দাতা ইসরাত পারভীন ও মুসলিমা ইসমাইল। দলিল লেখক রাসেদুজ্জামান সাবরেজিস্ট্রারের (উমেদার) পিয়ন শাহাদাত হোসেন এর যোগসাজসে মোটা অংকের অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে গ্রহিতা আলী হায়দার রতন এর নামে দলিলটি রেজিস্ট্রি করেন সাবরেজিস্ট্রার বোরহান উদ্দিন সরকার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দলিল লেখক জানান, দলিল লেখত সমিতির একাধিক অসাধূ লেখকের যোগসাজশে সাবরেজিস্ট্রার বোরহান উদ্দিন সরকার মোটা অঙ্কের অনৈতিক সুবিধা নিয়ে একের পর এক খাস ও বনবিজ্ঞপ্তিত জমি রেজিস্ট্রি করে চলেছেন। একাধিক দলিল লেখক আরো জানান, বর্তমান সাবরেজিস্ট্রার তার এজলাসে বসে কোন দলিলই রেজিস্ট্রি করেন না। প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর ছবির নিচে এজলাসে বসে তার দলিল রেজিস্ট্রি করেতে মোটেও দেখা যায়নি। তার বিশ্বস্থ্য পিয়ন শাহাদত হোসেন যে সকল দলিল উপস্থান করেন, শুধূ ওইসকল দলিল তিনি তার খাস কামরায় বসে রেজিস্ট্রি করে থাকেন।
উথুরা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ধলিকুড়ি মৌজায় ৩০ নম্বর এস,এ খতিয়ান ফরফিটেড। ওই খতিয়ানে খাজনার দাখিলা কাটা সম্ভব না।
ভালুকা সাবরেজিস্ট্রার মো: বোরহান উদ্দিন সরকার হেবা দলিল রেজিস্ট্রিতে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, কেউ হয়তো আমার নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা নিতে পারে। তাছাড়া খাস ও বনবিজ্ঞপ্তিত জমি রেজিস্ট্রির ব্যাপারে তিনি বলেন, কাগজপত্র দেখেই জমি রেজিস্ট্রি করা হয়ে থাকে।
এসব অনিয়মের ব্যাপারে ময়মনসিংহ জেলা রেজিস্ট্রার (ডিআর) মোহসিন আলীর সাথে মোবাইলে কথা বললে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলেন জানান।

Share.

Comments are closed.