Girl in a jacket

ভালুকায় মামলার বাদি ও স্বাক্ষীকে হুমকীর অভিযোগ

0

স্টাফ রিপোর্টার, দিগন্তবার্তা:-

ময়মনসিংহের ভালুকায় এক কুয়েত প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, মারধর ও লুটপাট ঘটনায় আদালতে দায়েরকৃত মামলার বাদি ও স্বাক্ষীকে হত্যার হুমকী দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারটি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন বলে বাদির অভিযোগ। এ ঘটনায় মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামের কুয়েত প্রবাসী শরাফত আলীর স্ত্রীর রাশিদা বেগমকে কুপ্রস্তাব দেয় প্রতিবেশি কছের আলীর ছেলে সাদিকুল ইসলাম (৩০)। এমনকি রাশিদা বেগম কুপ্রস্তাব রাজি না হওয়ায় তার পরিবারের লোকজনদেরকে মেরে গুম করে ফেলবে বলেও হুমকি দেয়া হয়। ওইসব ঘটনায় গত বছরের ১২ মাচ ভালুকা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডাইরী (নম্বর ৪৫৮) করে। পরে ওই ডায়েরী করার কারণে কছের আলী (৫০) ক্ষিপ্ত হয়ে রাশিদা বেগমের কাছে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে দাবিকৃত চাঁদা দেয়ার কথা অস্বীকার করিলে কছের আলীর ছেলে সাদিকুল ইসলাম (৩০), কেরামত আলী (৫৫) কছের আলীসহ ৮/৯ জনের একটি দল সঙ্গবদ্ধ হয়ে চলতি বছরের ৩ আগস্ট রাশিদা বেগমের বাড়িতে গিয়ে ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার ভেঙ্গে নগদ এক লক্ষ টাকা ও তিন ভরি স্বর্নালংকার নিয়া যায়। তাছাড়া ঘরে থাকা টিভি, ফ্রিজ, ডেসিং টেবিল, ফার্নিচারসহ ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এতে প্রায় দুই লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরে ওই ঘটনায় পরদিন সকালে জানাজানি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ স্থানীয়রা মীমাংসার প্রতিশ্রæতি দেয়। কিন্তু স্থানীয়ভাবে মীমাংসা না হওয়ায় অসহায় নিরীহ ভুক্তভোগী রাশিদা বেগম গত ৬ আগস্ট ন্যায় বিচার পাওয়ার লক্ষ্যে ময়মনসিংহ-জেলা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৮নং আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা করার পর থেকে প্রতিপক্ষরা আবার শুরু করে বিভিন্ন ধরণের হুমকী।
রাশেদা বেগম জানান, স্বামী বিদেশ থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই আমাকে উত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিতে থাকে সাদেকুল। আমি তার কথায় রাজী না হওয়ায় সে আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজনকে মেরে গুম করে ফেলবেও হুমকি দিয়ে আসছে এবং গত ৩১ আগস্ট সোমবার প্রতিপক্ষ সাদেকুল হুমকী দেয় যে, যদি স্বেচ্ছায় তাদের বিরুদ্ধে দেয়া মামলা উঠিয়ে না নেই তাহলে প্রাণে মেরে ফেলবে এবং মেরে গুম করে ফেলা হবে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার রাশেদার পরিবারের লোকজনকে মেরে ফেলার জন্য ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী অঅনা হয় বলে রাশেদা অভিযোগ। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের মাঝে একজনের বাড়ি পাশের সখিপুর, আরেকজন বাটাজোর। তারা দা নিয়ে সারাদিনই ঘুরাঘুরি করছে কুপিয়ে হত্যা করার উদ্দেশ্যে। পরে আত্মরক্ষার্থে অন্য বাড়িতে সারাদিন অবস্থান নিতে হয় আমাদের। সন্ত্রাসীদের ভয়ে রাশিদার পরিবার বর্তমাণে নিরাপত্থাহীনতায় ভূগছেন বলে অভিযোগ করেন। এব্যাপারে এলাকার শতাধিক লোকজন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
সাদিকুল নিজেও তাদের বাড়িতে সখীপুর ও বাটাজোরের লোক এসেছিল একথা স্বীকার করেছে কিন্তু একজন তার মামা আরেকজন তাদেরই আত্মীয় বলে জানান।
স্বাক্ষী তুলা মিয়া জানান, রাশেদা বেগম আদালতে মামলা করায় এবং ওই মামলার স্বাক্ষী হওয়ায় আমাকেও সাদেকুল গং বিভিন্ন ধরণের হুমকী দিয়ে আসছে স্বাক্ষী না দেয়ার জন্য। তিনি এখণ নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন বলে জানান। এ ব্যাপারে মামলার বাদি রাশেদা বেগম ও স্বাক্ষীগণ পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

Share.

Comments are closed.