Girl in a jacket

ভালুকা বাজার বড় মসজিদের কাজে ব্যবহৃত শতবর্ষী পুকুরটি ভরাটের পাঁয়তারা

0

স্টাফ রিপোর্টার,দিগন্তবার্তাঃ-

ময়মনসিংহের ভালুকা বাজার বড় মসজিদের মুসল্লিদের কাজে ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী সরকারি খাস পুকুরটি ভরাটের পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বেআইনীভাবে পুকুরটি ভরাট বন্ধে ও সংস্কারের দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও জলাশয় নীতিমালা উপেক্ষা করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভালুকা বাজারের বড় মসজিদ সংলগ্ন মুসল্লিদের ব্যবহৃত শতবর্ষী পুকুরটি ভরাটের চেষ্টা করা হচ্ছে। ওই পুকুরটি মসজিদ নির্মাণের শুরু থেকেই মুসল্লিগণের ওযু ও গোসলের কাজে ব্যবহার করে আসছিলেন। কিন্তু বেশ কিছুদিন যাবৎ পুকুরের চারপাশে মসজিদ কমিটির ভাড়া দেয়া দোকানপাটের ময়লা আর্বজনা ফেলার কারণে পুকুরটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গত কিছুদিন পূর্বে পুকুরটির প্রায় এক চর্তুথাংশ জায়গা বালি দিয়ে ভরাট করলে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ভরাট কাজ বন্ধ করে দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শতবর্ষী মসজিদটির পাশেই ৪০ শতাংশ জমির উপর তের কোটি ৩৫ লাখ ৩৩ হাজার ৩১৩ টাকা ব্যয়ে তিনতলা বিশিষ্ট মডেল মসজিদ ও ইসলামীক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয় এবং সে অনুযায়ী ২০১৭ সালে স্থান নির্ধারণপূর্বক নক্সা প্রণয়নসহ ইতোমধ্যে পাইনিংএর কাজও শেষ হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে গত ১৪ সেপেটম্বর নতুন করে ইসলামী ফাউন্ডেশন ময়মনসিংহ কর্তৃক ভালুকা মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য এক নম্বর খাস খতিয়ানের ৫৯ নম্বর দাগ থেকে ভালুকা বাজারের ৪৩ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়। (যার স্বারক নম্বর-১৬.০১.৬১০০.০২২.১৭.৩৯৭.১৮৫১ (৩)।
স্থানীয় মুসল্লিগণ জানান, একই সাথে দু’টি মসজিদ না হয়ে একটু দুরত্বে হলে ভালো হতো। কারণ জুম্মাবারে এক সাথে দু’টি মসজিদেই জামায়াতে সালাত আদায় কেমনে সম্ভব?
এ বিষয়ে অভিযোগকারী পরিবেশকর্মী ও ভালুকা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান পাঠান কামাল জানান, গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক পুকুরটি পরিদর্শণ করে পুকুর ভরাটের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তাৎক্ষনিক পুকুরের বালি ভরাট বন্ধ হলেও রহস্যজনক কারণে পুকুর সংলগ্ন পশ্চিম পার্শ্বে বিশাল বালির স্তুপ জমা করে রাখা হয়েছে এবং যেকোন মুহুর্তে অল্প সময়ে পুকুরটি ভরাট করে ফেলতে পারে। শতবর্ষী সরকারি খাস পুকুরটি ভরাটের কাজ বন্ধ করার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পুকুরটি সংস্কার করে দৃষ্টিনন্দন করার দাবিতে আমি ওই আবেদনটি করেছি। তিনি আরো জানান, শতবর্ষী মসজিদের পাশে মডেল মসজিদ নির্মাণের সার্বিক কার্যক্রম শুরু হলেও নতুন করে মসজিদের জন্য জমি বরাদ্দ চাওয়া মানে মসজিদের নামে মার্কেট নির্মাণ করে মোটা অঙ্কের আর্থিক বাণিজ্যের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরো জানান, ওই মহলটি শুধু শতবর্ষী পুকুরটিই ভরাট করছেনা, পাশাপাশি পুকুরের দু’পাশে মসজিরদর নামে ভাড়া দেয়া ৭২ টি দোকান উচ্ছেদের নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। এতে ওই দোকানীরা চরম উৎকন্ঠায় আছেন।তাছাড়া পুরানো এই খাস পুকুরটি ভরাট হয়ে হয়ে যাওয়ার পর যদি কখনো বাজারে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে, তবে পানির অভাবে বড় ধরণের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
পুকুর ভরাটের বিষয়টি স্বীকার করে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী আলহাজ্ব মোহাম্মদ হাতেম খান জানান, ইসলামী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর খাস পুকুরটি মসজিদের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। যদি বরাদ্দ পাওয়া যায়, তবে তা মসজিদের উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামলা খাতুন জানান, পুকুর ভরাটের কাজ বন্ধ আছে। উধ্বর্তণ কতৃর্পক্ষ সরেজমিন পরিদর্শণ করেছেন এবং এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

Share.

Comments are closed.