Girl in a jacket

ভালুকায় ভুয়া কাগজে বনের জমি রেজিস্ট্রি, লাইসেন্স স্থগিত

0

আসাদুজ্জামান ফজলু:-
বনবিভাগের সাড়ে তিন শতাংশ জমির ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে দলিল রেজিষ্ট্রি করার অভিযোগে ময়মনসিংহের ভালুকায় জয়নাল আবেদীন নামে এক দলিল লেখকের লাইসেন্স স্থগিত স্থগিত করা হয়েছে। গত ১৫ নভেম্বর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলেও ১৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার তা জানাজানি হয়।
বন বিভাগ ও ভালুকা সাবরেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হবিরবাড়ী মৌজার ১৮৫ নং দাগে বনবিভাগের একশ ৮০একর জমি রয়েছে। এই দাগের তিন কোটি টাকার সাড়ে তিন শতাংশ জমি পঞ্চাশ লাখ টাকা মূল্য দেখিয়ে গত ১৩ অক্টোবর ভিজিট কমিশনের মাধ্যমে মোট অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে রেজিস্ট্রি করেন ভালুকার সাব রেজিস্ট্রার বোরহান উদ্দিন। রেজিস্ট্রি করা দলিলটির লেখক ভালুকা সাব রেজিস্ট্রী অফিসের দলিল লেখক সমিতির কোষাধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন। দলিলের দাতা হবিরবাড়ী গ্রামের মৃত মুঞ্জুরুল হকের স্ত্রী মোছাঃ মুক্তাজা খাতুন । গ্রহিতা একই এলাকার মৃত হোছেন আলী দপ্তরীর ছেলে সিরাজ উদ্দিন। রেজিস্ট্রী করা এই জমিটির উপর একটি পাঁচতলা বিশিষ্ট বহুতল ভবন রয়েছে। অথচ দলিলে ভবনটির কথা উল্লেখ করা হয়নি।
জমিটি গোপনে রেজিস্ট্রি হওয়ায় সন্দেহ তৈরি হয়।পরে ভালুকা উপজেলা সহকারী (ভূমি) কার্যালয় ও ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে কাগজ পত্র ঘেটে দেখা যায়, মুক্তাজা খাতুনের নামজারির খতিয়ানে ভূমি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরের সঙ্গে অন্য খতিয়ানের স্বাক্ষরের মিল নেই। জমি রেজিস্ট্রি করার আগে চলতি অর্থবছরের খাজনা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকলেও সরকারি নতি পত্রে তা পাওয়া যায়নি। অথচ চলতি অর্থবছরের খাজনা পরিশোধের রশিদটি দলিলের সঙ্গে জমা আছে বলে দাবি করেছেন সাব রেজিস্ট্রার বোরহান উদ্দিন।
হবিরবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা জীবন কুমার বিশ্বাস বলেন, হবিরবাড়ী মৌজায় ১৮৫ নং দাগের বেশির ভাগই বন বিভাগের জমি। ৩০৪৩ নং খারিজা খতিয়ানটি ২০০৮-০৯ সালে দেখানো হয়েছে । তবে নামজারিটি সন্দেহজনক। তখন আমি এখানে কর্মরত ছিলাম না। গত কয়েকটি অর্থ বছরের খাজনাও পরিশোধ করা হয়নি।
হবিরবাড়ী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন জানান, হবিরবাড়ী মৌজার ১৮৫ নং দাগে ১৮০ একর বন বনের জমি রয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে তিন শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর লিখিত ভাবে বন বিভাগের পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রি বিভাগকে জানানো হয়েছে। এরপর বুধবার ময়মনসিংহের জেলা রেজিস্ট্রার সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।
এর আগে গত ২১ অক্টোবর এ বিষয়ে দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় স্বচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। গত বুধবার বিকেলে বিষয়টি নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করতে আসেন ময়মনসিংহের জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়া। পরে তিনি হবিরবাড়ি রেঞ্চ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন, দলিল লেখক জয়নাল আবেদীন এবং জমির গ্রহিতা সিরাজ উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেন।
ময়মনসিংহের জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়ার সরেজমিনে ভবন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভালুকার সাব রেজিস্ট্রার বোরহান উদ্দিন সরকার। তিনি বলেন, দলিল লেখকের সাবমিট করা কাগজ পত্রের ভিত্তিতে জমিটি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হলে জানা যায়, ওই জমির উপর একটি বহুতল ভবন রয়েছে। যা গোপন করেছিলেন জমির গ্রহিতা, দাতা ও দলিল লেখক। এরপর ওই ভবনের রাজস্বের টাকা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। দলিল লেখকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযাগ থাকায় তাঁর লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য-গত সেপ্টেম্বের মাঝামাঝিতে তিনজন স্বাক্ষীর স্বাক্ষর জাল করে জমি রেজিস্ট্রির চেষ্টার অভিযোগে দলিল লেখক হারুন অর রশিদের লাইসেন্স স্থগিত করেছেন ভালুকার সাবরেজিস্ট্রার বোরহান উদ্দিন।

Share.

Comments are closed.