Girl in a jacket

ভালুকায় বনবিভাগের ৪০ বিঘা জমি দখলে নিয়ে লেবু বাগান করার অভিযোগ

0

স্টাফ রিপোর্টার, দিগন্তবার্তা, ১৪ ডিসেম্বর:-

ময়মনসিংহের ভালুকায় এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বনবিভাগের ৪০ বিঘা জমি জবরদখল করে লেবু বাগান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কাদিগড় গ্রামে জাতীয় উদ্যানের পূর্বপাশে।
সরেজমিন এলাকা ঘুরে বনবিভাগ ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার কাদিগড় গ্রামে জাতীয় উদ্যানের পূর্বপাশ ঘেষে কাদিগড় মৌজার ৩১০ নম্বর দাগে ঢাকার জনৈক প্রভাবশালী প্রায় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বনবিজ্ঞপ্তিত ৪০ বিঘা জমি পর্যায়ক্রমে দখলে নেয়। স্থানীয় সিরাজ উদ্দিনসহ কতিপয় ব্যক্তি পৈত্রিক ও প্রতিবেশি কয়েকজনের জমি ভূয়া কাগজপত্র দেখিয়ে প্রভাবশালী ওই ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। পরে ওই জমির চারপাশে অস্থায়ী বেড়া নির্মাণ করে লেবুসহ বিভিন্ন প্রজাতীয় গাছের বাগান শুরু করেন।
স্থানীয় বেশ কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার সর্তে জানান, পুরো জমিই বনবিজ্ঞপ্তিত ও বিশাল বিশাল গজারী গাছে আবৃত ছিলো এবং পর্যাক্রমে গাছগুলো কেটে নিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে। যা স্থানীয় সিরাজ উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি দালালির মাধ্যমে ভূয়া কাগজে নিজেরসহ বিভিন্ন জনের কাছ থেকে কম মূল্যে কবির আহমেদ নামে এক প্রভাবশালীর কাছে বিক্রি করেছেন। ওই ব্যক্তি এখানে তেমন আসেন না। বাবুল চন্দ্র রায় নামে এক ব্যক্তি ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং লিটন হোসেন নামে অপর এক ব্যক্তি সার্বিক খোঁজ খবর রাখেন।
তারা আরো জানান, লেবু বাগান করার সুবাদে চারপাশে বেড়া নির্মাণের কারণে স্থানীয় বিধবা আছিয়া খাতুন, নজরুল ইসলাম, আব্দুস ছালাম, আলমাছ ও জালাল উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। বাড়ি থেকে বেড় হওয়ার রাস্তাটুকু তারা রাখছেন না। ফলে চরম দূর্ভোগর মধ্যদিয়ে তাদের বাড়ি থেকে বের হতে হচ্ছে। স্থাণীয় নজরুল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন জানান, বাগানের পাশে তার তিন কাঠা জমি রয়েছে এবং তার ওই জমিটুকু কম মূল্যে কিনে নেয়ার জন্য বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করে আসছেন। মৃত আব্দুল খালেকের বিধবা স্ত্রী আছিয়া খাতুন রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় তার জঙ্গল দিয়ে বাড়িতে আসা যাওয়া করতে হচ্ছে।
স্থাণীয় ইউপি সদস্য আবু বকর সিদ্দিকী বাবুল জানান, বর্তমান বিট কর্মকর্তা আশরাফুল আলম এই বিটে যোগদানের পর ঢাকার কবির আহমেদ নামে এক প্রভাবশালী স্থাণীয় সিরাজ উদ্দিনের মাধ্যমে বনবিজ্ঞপ্তিত ওই জমি দখলে নিয়ে বাগান করেছেন। বিট অফিসারের কাছে জানেন, তিনি জবরদখলের বিরুদ্ধে কোন আইনী ব্যবস্থা নিয়েছেন কিনা? অভিযুক্ত সিরাজউদ্দিন জানান, ওই জমি আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। তাই আমি ঢাকার জনৈক কবির আহমেদের কাছে বিক্রি করেছি।
বাগানের ম্যানেজার বাবুল চন্দ্র রায় জানান, আমি বাগানের দায়িত্বে আছি, তবে আর কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবোনা। তবে জমির বিষয়ে স্থানীয় সিরাজউদ্দিন বলতে পারবেন। তাছাড়া জমির সার্বিক বিষয়ে লিটন হোসেনও বলতে পারবেন।
মোবাইলে কথা জানতে চাইলে লিটন হোসেন, ৪০ বিঘা জমিতে লেবু বাগান করার কথা স্বীকার করে ক্ষোভের সাথে বলেন, ওই জমিটা বনবিজ্ঞপ্তিত কিনা তা আগে জানা ছিলোনা। কাদিগড় গ্রামের সিরাজউদ্দিন তাদের সাথে চরম প্রতারণা করেছেন। আমি সার্বিক কাগজপত্র দিয়ে সাহায্য করবো, আপনারা ওই প্রতারকদের বিষয়ে লেখেন।
মোবাইলে কবির আহমেদ জানান, ভালুকায় তার কোন জমি নেই। তবে কাদিগড় মৌজায় কিছু জমির বায়না হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বনবিজ্ঞপ্তিত ও বন চয়েস এক বিষয় নয়। আমার জানা মতে ওই জমিটা বন চয়েস থাকতে পারে।
কাদিগড় বিট কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, কাদিগড় মৌজার ৩১০ নম্বর দাগে মোট জমি রয়েছে ১২৮ একর। যার পুরোটাই বনবিজ্ঞপ্তিত এবং সমুদয় জমি বিভিন্নজনে জবর দখল করে রেখেছেন। তিনি ওই বিটে যোগদানের আগে এসব হয়েছে। তবে আগের বিট কর্মকর্তা জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিয়েছিলেন কিনা, তা তার জানা নেই।
ভালুকা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন জানান, শুনেছি কাদিগড় মৌজার ৩১০ দাগে পর্যাক্রমে বনভূমি দখলে নিয়ে কে যেনো লেবু বাগান করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আদালতে উচ্ছেদ মামলা প্রক্রিয়াধীন।

Share.

Comments are closed.