Girl in a jacket

ভালুকায় বনকর্মকর্তাদের নাকের ঢগায় গজারী বাগানের ভেতর একাধিক বিশাল পুকুর!

0

স্টাফ রিপোর্টার, দিগন্তবার্তাঃ-
ময়মনসিংহের ভালুকায় সংরক্ষিত গজারী বাগানের ভেতর হবিরবাড়ি বিট অফিসের অদূরে কর্মকর্তাদের নাকের ঢগায় প্রায় আর্ধকিলোমিটার জুড়ে ৩৫ থেকে ৪৯ ফিট গর্ত করে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে পুকুর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে চলতি বর্ষায় বড় ধরণের ভূমিধ্বসের ঘটনা ঘটে পুকুরের চারপাশের বনবিভাগের ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সি কয়েক হাজার বিশাল আকারের গজারী গাছ পুকুরে পড়ে বনবিভাগের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভবনা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া একই মৌজায় আরো বেশ কয়েকটি দাগে বনবিজ্ঞপ্তিত জমি দখলে নিয়ে একাধিক মাছের খামার ও পুকুর নির্মাণেরও অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বারশ্রী গ্রামের মৃত জয়নুদ্দিন সেখের ছেলে প্রভাবশালী আব্দুল আউয়াল ওরফে তেল আওয়াল হবিরবাড়ি মৌজার ৬৬৯ নম্বর দাগসহ বনবিভাগের ৭০৭ নম্বর দাগের কিছু অংশ নিয়ে ভ্যাকো দিয়ে কেটে ৪০ থেকে ৫০ ফিট গর্ত করে প্রায় অর্ধকিলোমিটার জুড়ে পুকুর নির্মাণ করছেন। এতে বর্ষায় বড় ধরণের ভূমিধ্বসের ঘটনা ঘটে পুকুরের চারপাশের বনবিভাগের ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সি কয়েক হাজার বিশাল আকারের গজারী গাছ উপড়ে পরে গিয়ে বনবিভাগের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওই দাগে আব্দুল আওয়ালের ৮ বিঘা জমি থাকলেও প্রায় ১১ বিঘা জমির উপর বিশাল আকারের পুকুরটি নির্মাণ করছেন এবং অতিরিক্ত জমিটুকু বনবিভাগের। তারা আরো জানান, ঘন গজারী বনের পাড় ঘেষে ৪০ থেকে ৫০ ফুট গভীরতায় খনন করায় বড় ধরণের পাড় ধ্বসে শত শত গজারী গাছ পড়ে যেতে পারে। পুকুরটির ২০ থেকে ৫০০ গজের মধ্যে হবিরবাড়ি বিট অফিস থাকলেও রহস্যজনক কারণে এ ব্যাপারে তেমন কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে আব্দুল আউয়াল জানান, ৬৬৯ নম্বর দাগে তার ৮ বিঘা জমির উপর তিনি পুকুর নির্মাণ করছেন। তবে পুকুরটি এতো গভীর করার কথা না থাকলেও মনির নামে জনৈক ভ্যাকো মালিক মোটা অঙ্কের টাকায় মাটি বিক্রির কারণে আমার অনুপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। ভূমি ধ্বসে বনবিভাগের ক্ষতির ব্যাপারে তিনি বলেন, পুকুর খননের পরও পাশে তার জমি রয়েছে এবং ভূমি ধ্বস হলে তার জমির গজারী গাছেরই ক্ষতি হবে।
তাছাড়া একই মৌজায় আরো বেশ কয়েকটি দাগে বনবিজ্ঞপ্তিত জমি দখলে নিয়ে প্রভাবশালী কর্তৃক একাধিক মাছের খামার ও পুকুর নির্মাণেরও অভিযোগ রয়েছে। ফলে এসব পুকুর ও মাছের খামরের চারপাশে থাকা হাজার হাজার পুরাতন গজারী গাছ ওইসব খামার বা পুকুরের পাড় ভেঙে পড়ে গজারী বনের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে এলাকাবাসির অভিযোগ। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বনবিভাগের অসাধূ ব্যক্তিদের ম্যানেজ করেই এসব পুকুর ও খামার তৈরী হচ্ছে। এতে করে আস্তে আস্তে বন সম্পদ উড়ার হয়ে প্রভাবশালীদের হাতে চলে যাচ্ছে।
ভালুকা রেঞ্জের হবিরবাড়ি বিটের বিট কর্মকর্তা দেওয়ান আলী জানান, পুকুর মালিক পাড় না রেখেই গভীর খননের মাধ্যমে পুকুরটি নির্মাণ করেছেন। ভূমি ধ্বসে বনবিভাগের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকায় পুকুর মালিকের বিরুদ্ধে আমার পূর্বের বিট অফিসার বন আইনে মামলা দিয়ে গেছেন। ইদানিং পুকুর পাড়ের কোন গজারী গাছ পড়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।

Share.

Comments are closed.