Girl in a jacket

ভালুকায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত স্কুলছাত্রী সুমিকে সঙ্কটাপন্ন অবস্থা আবারো ময়মনসিংহে প্রেরণ

0

প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ভালুকায় উপজেলার কাতলামারী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর মেধাবী ছাত্রী সুমি আক্তারের (১৪) অবস্থা খুবই সঙ্কটাপন্ন। তাকে কয়েকদফা ভালুকা ৫০ শয্যা সরকারী হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপালে চিকিৎসার পরও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। ফলে ডাক্তারদের পরামশে ৬ জুলাই আবারো সুমিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেছেন তার পরিবার।

এদিকে ইতোমধ্যে সুমির পরিবার আসামীদের গ্রেফতার ও তাদের বিচার দাবিতে ভালুকা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তাছাড়া ৬ জুলাই সকালে আসামীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে সহপাঠিরা স্কুল প্রাঙ্গনে মানববন্ধন করতে চাইলে স্কুল কতৃপক্ষের রহস্যজনক অসহযোগীতার কারণে তা করা সম্ভব হয়নি বলে সুমির পরিবারের অভিযোগ।

সুমির চাচা তোফাজ্জল হোসেন জানান, হালিম শিকদার ও আলী হায়দার গং হামলা করে তাদের পরিবারের স্কুল পড়ূয়া দুই মেয়ে সুমি ও তার ছোট বোন একই স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী mygvBqvসহ (12) পরিবারের ৫ নারীকে আহত করেই ক্ষান্ত হয়নি। উল্টো তারা মৃত্যুশয্যায় থাকা সুমিসহ পরিবারের ৮ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দিয়েছে। এখন তারা টাকার অভাবে তাদের মেয়ে সুমিকে উন্নত চিকিৎসা দিতে পারছেনা। পরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুমির চিকিৎসার খরচ বহনের আস্বাসে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, আসামীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাস্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

সুমির স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফাতেমা আক্তার জানান, মানববন্ধন করার আগের রাতে আমাকে বিষয়টি জানানো হয়। কিন্তু ব্যবস্তাতার কারণে আমি মানববন্ধনে উপস্থিত থাকতে পারিনি। পরে শুনেছি সুমির পরিবার মানববন্ধন করেনি।

মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই সায়িদা আরা রিতা জানান, ওই ঘটনায় দুই পক্ষই মামলা দিয়েছেন এবং আমিই উভয় মামলার তদন্তকারী (আও)অফিসার। মামলার আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ভালুকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, তিনদিন আগে স্কুল ছাত্রী সুমিকে দেখতে তাদের বাড়িতে যাই। দেখলাম সুমির স্বারিরিক অবস্থা খুবই সঙ্কটাপন্ন। সুমির পরিবার অত্যন্ত গরীব হওয়ায় ঠিকমতো চিকিৎসাও করাতে পারছেনা। আমি ঢাকায় বেশ কয়েকটি হাসপাতালে চেষ্টা করেছি চিকিৎসার করানোর জন্য। কিন্তু ব্যবস্থা করতে না পারায় সুমির উন্নত চিকিৎসার জন্য তার পরিবারকে টাকা পয়সা দিয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছি। তিনি আরো জানান, দুই পরিবারের লোকজনই আমাকে বলেছে বিষয়টি মিমাংসা করে দেয়ার জন্য। আমি বলেছি, সুমি সুস্থ্য হয়ে আসুক পরে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবো।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুন উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের কাতলামারী গ্রামের জয়নাল আবেদীনের কাঠাল গাছ থেকে প্রতিবেশী হালিম শিকদার ও হায়দার আলী গংরা জোর পূর্বক কাঁঠাল পেরে ভ্যানগাড়ি ভরে নিয়ে যাওয়ার সময় তার মেয়ে সুমি আক্তারসহ পরিবারের অন্যরা বাঁধা দেয়। এ সময় হালিম শিকদারের লোকজন সুমিকে পিটিয়ে আহত করে। ফিরাতে এসে সুমির মা ফাতেমা (৩২) ছোট বোন সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী সুমাইয়া (১২) ও সখিনা আক্তার (৩৫) হামলায় আহত হন। সুমিকে প্রকাশ্যে মধ্যযোগীয় কায়দায় মারপিটের ঘটনাটি পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।   এ ঘটনায় সুমির বাবা বাদি হয়ে হালিম শিকদার, আলী হায়দার, রশিদ শিকদার, রাসেল শিকদার ও রাজু শিকদারের বিরুদ্ধে ভালুকা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

Share.

Comments are closed.