Girl in a jacket

ভালুকায় পল্লীবিদ্যুৎ সংযোগের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

0

আসাদুজ্জামান ফজলু, দিগন্তবার্তা, ২৫ ডিসেম্বর:-
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নে বিনামূল্যে শতভাগ পল্লীবিদ্যুতায়ন প্রকল্পের আওতায় দু’টি লটে আড়াই কিলোমিটার লাইনে সংযোগ দিতে প্রায় ১৫০ গ্রাহকের কাছ থেকে দালালচক্র অন্তত ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের এক শ্রেণীর দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী, কতিপয় ইলেক্ট্রিশিয়ান ও ঠিকাদারতের যোগসাজশে দালালরা গ্রামের সহজ সড়ল গ্রাহকদের কাছ থেকে কৌশলে এসব টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।
সরেজমিন উপজেলার তালাব ও পালগাঁও কামারিয়া গ্রাম ঘুরে গ্রাহকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৭৬৯১ ও ১৫৩৮০ লট নম্বর বিদ্যুতের লাইনে গত তিন বছর ধরে বিদ্যুৎ দেয়ার কথা বলে এলাকার সহজ সড়ল লোকদের কাছ থেকে মিটার প্রতি ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা করে বিভিন্ন কিস্তিতে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। তিন বছরে কোথাও খুঁটি পুতা হয়েছে, কোথাও ১১ হাজার ভোল্ডের তার টানানো হয়েছে, কোথাও সার্ভিস তার এমনকি কিছু কিছু জায়গায় মিটার দেয়া হয়েছে।
কথা হয় তালাব গ্রামের দক্ষিণপাড়ার গ্রাহক হাজী আব্দুল বাতেনের ছেলে মো: আরিফ মিয়ার সাথে। তিনি অভিযোগ করেন, তার কাছ থেকে স্থানীয় দালাল খোকা মিয়ার সাথে ৫ টি মিটারের জন্য চুক্তি হয় ৬০ হাজার টাকা। মিটার প্রতি ১২ হাজার টাকা হিসেবে। কিন্তু ৪৫ হাজার টাকা পরিশোধ করায় ৩ টি মিটার দিয়েছেন। বাকি টাকা পরিশোধ না করায় দু’টি মিটারের সংযোগ দেয়া হয়নি। তাছাড়া একই পাড়ার হিরন মিয়া, আলম, মোবারক, মাস্টার হারুন অর রশিদ, দুলাল মিয়া, মনির, সিদ্দিক, হুমায়ূন, সুলতান, গফুর, মাসুদ, ছালমাসহ বহু গ্রাহক টাকা পরিশোধ করলে, তারা সংযোগ পাইনি। বঞ্চিত অভিযোগ করেন, খোকা মিয়া একজন সুদের ব্যবসায়ী। তার কাছ থেকে অনেকেই সুদে ১০ হাজার টাকা নিয়ে মিটার প্রতি তার কাছে সমুদয় টাকা দিলেও তিনি সংযোগ দেননি। অথচ সুদের টাকার জন্য বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি ও হুমকী দিয়ে আসছেন।
এদিকে পাশের পালগাঁও কামারিয়া চালায় একই পদ্ধতিতে স্থাণীয় আবুল হাসনাত তারা মিয়া, নাজিম উদ্দিন ও আব্দুস সফুর নামে ব্যক্তি প্রায় শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে মিটার প্রতি ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন বলে স্থানীয় গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন। গ্রাহক এমদাদুল হক মিলন, নাজমা আক্তার, বিল্লাল মিয়া, হুমায়ূন কবির, লাল মিয়াসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেন, স্থাণীয় আবুল হাসনাত তারা মিয়া, নাজিম উদ্দিন ও আব্দুল গফুর তাদের কাছ থেকে মিটার প্রতি ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা নিয়েছেন। বেশ কয়েকজন মিটার পেলেও অধিকাংশ গ্রাহক এখনো মিটার পায়নি। যারা মিটার পেয়েছেন, তাদেরকেও নতুন করে ৫৬৫ টাকা করে দিতে হচ্ছে পল্লীবিদ্যুতের বাটাজোর সাব জোনাল অফিসের লাইন টেকনেশিয়ান আল মামুনের কাছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত খোকা মিয়া ও তারা মিয়া টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, দু’টি লটের ঠিকাদার নাছির উদ্দিন ও তার শ্যালক বিল্লাল মিয়া। তাদেরও টাকা দিয়ে মিটার নিতে হয়েছে।
ঠিকাদার নাসির উদ্দিনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, গত পাঁচ বছর ধরে তিনি কোন কাজ করছেন না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিল্লাল মিয়া তার আত্মীয় এবং তিনি হয়তো ওই লাইন দু’টির কাঝ করতে পারেন। ঠিকাদার বিল্লাল মিয়া তালাব ও পালগাঁও কামারিয়াচালায় কাজ করার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, আমাকে এলাকার মানুষ চিনে কিনা জিজ্ঞেস করেন। আর টাকা নেয়ার কথা তো প্রশ্নই আসেনা।
পল্লীবিদ্যুৎ বাটাজোর সাব জোনাল অফিসের এজিএম (কম) শাহিন মিয়া মিটার লাগানোর সময় ৫৬৫ টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে জানান, গ্রাহকদের কাছ থেকে কে বা কারা টাকা নিয়েছে, তার তাদের জানা নেই।
ময়মনসিংহ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২, ভালুকার জিএম শাজাহান কবির জানান, মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর “শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ” প্রকল্পে ওই এলাকায় লাইনের কাজ শেষ হলেও এখনও বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়াও হয়নি। তবে খুব তাড়াতাড়ি লাইনটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে। আবেদন ফি ও মিটার বাবদ ৫৬৫ টাকা ছাড়া অতিরিক্ত কোন টাকা নেয়ার কথা না। তবে বেশী টাকা নিয়ে থাকলে ঠিকাদার দায়ী হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালমা খাতুন জানান, পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এবং এলাকা পরিদর্শণ করে অনিয়মের বিষয়ে ব্যাবস্থা নেয়া হবেন।

Share.

Comments are closed.