Girl in a jacket

ভালুকায় চার বছরেও পল্লীবিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি ২৭ পরিবার : দালাল কর্তৃক সাড়ে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

0

আসাদুজ্জামান ফজলু, দিগন্তবার্তা.কম:-
ময়মনসিংহের ভালুকায় নির্মানাধিন পল্লীবিদ্যুতের একটি লাইন থেকেই দালালচক্র ২৭ টি পরিবারের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু চার বছরেও বিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি কোন পরিবার। ঘটনাটি উপজেলার তামাট পশ্চিম পাড়া এলাকায়।
সরেজমিন স্থানীয় ভূক্তভোগী পরিবারগুলোর সাথে কথা বলে জানা যায়, মাস্টার প্লানের আওতায় ময়মনসিংহ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের তামাট পশ্চিম পাড়া এলাকায় বিদ্যুতায়নের কাজ চলছে। যার লট নম্বর- ১৭ হাজার ২৯৮। নজরুল ইসলাম নামে এক ঠিকাদার কাজটি করছেন। খুঁটি পুতে বেশিরভাগ অংশে তার লাগানো হলেও গত চার বছরে সংযোগ পায়নি ২৭ টি পরিবার। অভিযোগ রাছে, স্থানীয় নাজমুল ও জসিম উদ্দিন নামে দুই দালালের কাছে মিটার প্রতি ১২ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা করে গত চার বছরে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা তুলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা এখনো বিদ্যুৎ পাইন। অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন টাকা আত্মসাত করে বর্তমানে সৌদিআরব চাকরী নিয়ে অবস্থান করছেন।
গ্রাহক মজনু মিয়া জানান, একটি মিটারের জন্য তিনি জসিম উদ্দিনকে ১৬ হাজার টাকা দিয়েছেন চার বছর আগে কিন্তু এখনো সংযোগ পাননি। একই পাড়ার হাফিজ উদ্দিনও ১৬ হাজার টাকা দিয়েছেন জসিমকে। তাছাড়া, নুরুল ইসলাম, মফিজ, মইজুদ্দিন, সিরাজ, হাাফজ উদ্দিন, হানি, রুকন, রতন মিয়া, হানি (২), বাছেদ, কোরবান, তইমুদ্দিন, আতা ও সবুর জসিম উদ্দিনকে ১৬ হাজার টাকা দিয়েছেন এবং ১২ হাজার টাকা দিয়েছেন মেহেদী নামে এক গ্রাহক।
অপরদিকে একই পাড়ার হযরত আলীর ছেলে দালাল নাজমুলের কাছে, রফিক ১৬ হাজার, রুহুল, মোতালেব, জাহাঙ্গীর ও জয়নাল ১২ হাজার করে, ছালাম ৭ হাজার, সালাম ও সুলেমন ১১ হাজার করে, ফারুক ১০ হাজার ৮০০, মাসুদ ৫ হাজার ও কাশেম ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। ভূক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে দালাল জসিম উদ্দিন বর্তমানে চাকরী নিয়ে সৌদিআরব অবস্থান করছেন। আর এদিকে অপর দালাল নাজমুল আরো টাকার জন্য দাবি করছেন এবং টাকা না দিলে কাউকে সংযোগ দেয়া হবেনা বলে হুমকী দিয়ে আসছেন।
এদিকে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করলেও দালাল নাজমুলের বাঁধার কারণে খুঁটিতে তার লাগাতে না দেয়ায় তার বাড়ির পিছনের তিন বিধবা নারী মৃত আশরাফুল আলমের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন, মৃত আব্বাস উদ্দিনের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন ওরফে মহুয়া ও মৃত আব্দুস সামাদের স্ত্রী রোকেয়া খাতুন সংযোগ না পাওয়ার আশঙ্কা করছেন। ভূক্তভোগী গ্রাহকরা অতিদ্রæত তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার জন্য উর্ধ্বতণ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন।
অভিযুক্ত নাজমুল টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে জানান, তিনি টাকা কালেকশন করে সব টাকা জসিম উদ্দিনকে দিয়ে দিয়েছেন। জসিম উদ্দিন এখন সৌদিআরব থাকায় সংযোগ পেতে দেড়ি হচ্ছে। অভিযুক্ত জসিম উদ্দিনের ছেলে সাগরকে এব্যাপারে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি ঘুমাচ্ছেন এবং পড়ে ফোন দিতে বলেন।
তবে সাগর সংবাদকমীদের জানান, এখানকার দু’টি লট থেকে ঠিকাদার নজরুল ইসলামের সহকারী জালাল ও লিটন তিন লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। কিন্ত রহস্যজনক কারণে সংযোগের কাজ শেষ করেননি। অভিযুক্ত জালাল উদ্দিন টাকা নেয়ার বিষটি অস্বীকার করে বলেন, টাকার বিষয়টি জসিম ও ঠিকাদার নজরুল ভাই ভালো বলতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, দেড় বছর আগে একটি খুঁটিতে বোতল ট্রান্সফরমার বসানো হলেও স্থানীয় নাজমুল নামে এক দালালের বাঁধার কারণে গ্রাহকরা সংযোগ পাচ্ছেনা। তবে আমরা দু’একদিনে মধ্যে এলাকায় গিয়ে সমস্যার সমাধনের চেষ্টা করবো। তিনি আরো বলেন, সিডিউল খরচ ছাড়াও অফিসের আরো কিছু খবচ আছে, যেমন মিটার বের করতে গেলে লেভার খবর দিতে হয়। যদিও লেভারগন ওই অফিসেরই তারপরও গত কয়েকদিন আগে কয়েকটি মিটার বের করতে গিয়ে লেভারদের দুই হাজার টাকা দিতে হয়েছে। তাছাড়া গাড়ি বাড়াসহ অনসুঙ্গক আরো অনেক খরচ।
ঠিকাদার নজরুল ইসলাম জানান, দুইটি খুঁটিতে বাঁধার কারণে কাজটি শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবে দু’একদিনের মধ্যেই এলাকায় গিয়ে সম্যস্যা সমাধানের চেষ্টা করবো। টাকার বিষয়ে তিনি বলেন, জালাল ও লিটন হয়তো গাড়ি ভাড়া ও লেভার খরচ নিয়েছেন।
মযমনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সহকারী প্রকৌশলী (প্রকল্প বিভাগ) আরিফ হোসাইন জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিলোনা। লোক পাঠিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখছি এবং অতি দ্রæত যেন গ্রাহকরা বিদ্যুৎ সংযোগ পান সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share.

Comments are closed.