Girl in a jacket

ভালুকায় ঘর নির্মাণ করলেই টাকা দাবির অভিযোগ বনবিভাগের অসাধূ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে

0

স্টাফ রিপোর্টার, দিগন্তবার্তাঃ-

ময়মনসিংহের ভালুকা রেঞ্জের আওতায় উপজেলার মল্লিকবাড়ি বনবিটের বনপ্রহরী পলাশ মিয়ার বিরুদ্ধে ঘর নির্মাণকারীদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। টাকা না দিলে ভাঙচুরসহ বন আইনে মামলার হুমকীও দেয়া হচ্ছে বলে কেউ কেই অভিযোগ করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার উথুরা রেঞ্জের আওতায় আঙ্গারগাড়া বিট থেকে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে উর্ধ্বতণ কর্তৃপক্ষ ভালুকা রেঞ্জের আওতায় উপজেলার মল্লিকবাড়ি বনবিট অফিসে প্রায় আড়াই বছর আগে বদলী করে দেন বনপ্রহরী পলাশ মিয়াকে। বিটের দায়িত্বে থাকা বিট অফিসার মোস্তাফিজ কর্মস্থলে সব সময় না থাকার সুযোগে পলাশ মিয়া পরো বন এলাকায় ধাপিয়ে বেড়ান নিজেকে অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে। এমনকি চাহিদা অনুযায়ী অনৈতিকি সুবিধা নিয়ে বন বিভাগের দাবিকৃত ভূমর উপর ঘর-বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলার অনমুতি দেন পলাশ মিয়া। ফলে বিটের আওতায় মল্লিকবাড়ি, নয়নপুর, ধামশুর, মামারিশপুর ও গোববদিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে একর পর এক নির্মাণ শুরু হয় বহুতল ভবনসহ দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পলাশ মিয়া ওই বিটে যোগদান করার পর গত আড়াই বছরে প্রায় অর্ধশতাধিক ঘর-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উছেছে ওই সব এলাকায়। আর ওইসব নির্মানকারীদের কাছ থেকে তিনি নিজেকে অফিসার পরিচয় দিয়ে এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ভাঙ্গিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি কোন কোন ব্যক্তির কাছে বনবিভাগের ব্যাপক ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবেও দাপট দেখান।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার গোবদিয়া পূর্বপাড়া মৃত আশ্রাব আলীর ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী আব্দুস সাত্তার মল্লিকবাড়ি মৌজার ৩৮৯ নম্বর দাগে তাদের পুরনো বাড়ির পাশেই একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। খবর পেয়ে বনপ্রহরী পলাশ মিয়া প্রথমে কাজে বাঁধা সৃষ্টি করেন। পরে মোটা অঙ্কের টাকা দেয়ায় তিনি ভবন নির্মাণে অনুমতি দেন বলে নির্মাণকারী আব্দুস সাত্তারের বড় ভাই মোতালেব মিয়া জানান। অপরদিকে গোবদিয়া বাজারে দুইতলা ভবনের একতলার কাজ শেষ করছেন নসুরুদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। একই মৌজার ৩৬৮ নম্বর দাগটি বনবিভাগের চয়েজভূক্ত হওয়ায় বন প্রহরী পলাশ মিয়া তাকেও নির্মাণ কাজে বাঁধা দেন এবং এক লাখ টাকা দাবি করে বসেন। পরে তাকে বিভিন্ন কৌশলে নিবৃত করেন বলে নির্মাণকারী নসরুদ্দিন জানান। তাছাড়া একই বাজারে এর আগে আক্কাস আলী, আব্দুল কাদের, রমজান আলী ও ময়না মিয়া বনপ্রহরী পলাশ মিয়াকে ম্যানেজ করেই তাদের স্থাপনা নির্মাণ করেছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
এসব ব্যাপারে জানতে পলাশ মিয়ার সাথে ফোনে কথা বললে তিনি এক সংবাদকর্মীকে বলেন, এক লাখ টাকা দাবি করলে আপনার কোন সমস্যা? আপনারা যা পারেন করেন।
এ ব্যাপারে ভালুকা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন জানান, খবর নিয়ে দেখছি, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Share.

Comments are closed.