Girl in a jacket

ভালুকায় গ্রাম্য সালিশে চারলাখ টাকা জরিমানা করা হলো ধর্ষণকারীকে : জোর করে কলেজ ছাত্রীর স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ

0

ময়মনসিংহের ভালুকায় গ্রাম্য সালিশে মাতব্বরগণ চার লাখ টাকা জরিমানা করলেন ধর্ষণকারীকে। আর একমতো জোর করেই নেয়া হলো কলেজ ছাত্রীর স্বাক্ষর। ঘটনাটি উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের কাশর উত্তরপাড়ায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের কাশর দক্ষিণপাড়ার মৃতঃ চাঁন মিয়ার ( সাবেক মেম্বার) ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম রানার সাথে দীর্ঘ চার বছর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে পাশের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনয়নের ধনুয়া গ্রামের ওই কলেজ ছাত্রীর । পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে লম্পট মঞ্জুরুল ইসলাম রানা। পরে এই বিষয়ে পরিবারের মাঝে জানাজানি হলে মেয়ের পরিবার ঘটনাটি ছেলের পরিবারকে জানান, কিন্তু বিষয়টি ছেলের পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নিতে রাজিনা। গত ৩০জুন  ওই ছাত্রী ছেলের বাড়ীতে বিয়ের দাবীতে অনশন করে। ছেলের পরিবার এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় মেয়েকে বাড়ী থেকে বের করে দেন। এ সময় বিয়ে করার জন্য চাপ দিলেও মঞ্জুরুল বিয়েতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ এসে ভিকটিমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। থানায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে চিকিৎসার জন্য ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে অবস্থানকালে ভিকটিম উপস্থিত স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে তাদের চার বছরের দীর্ঘ প্রেমের কাহিনীর বর্ণনা দেন। পরে হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় রানার পরিবারের লোকজন ভিকটিমকে বিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে কৌশলে বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে বের করে নিয়ে যায়। বাড়ি যাওয়ার পর ভিকটিমকে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে টাকা প্রস্তাব নিয়ে গেলে তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। সুষ্ঠু ফয়সালা না পাওয়ায় মেয়ে তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যারও চেষ্টা করেন।

এ নিয়ে ই ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম বিল্লাল, প্রভাবশালী নেতা আজিজ, জয়নাল ও হারেছসহ বেশ কয়েকজন  রাতে গণ্যমাণ্যরা অনেকটাই জোরপূর্বক ভিকটিমের পরিবারের কাছে চার লাখ টাকা দিয়ে মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার খালার বাড়ি পাশ্ববর্তী গফরগাঁও উপজেলা বলদি গ্রামে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

সালিশের অন্যতম সদস্য মেয়ের প্রতিবেশি নানা আব্দুল হাই জানান, মেয়েটিকে রানার কাছে এখন বিয়ে দিলে কয়েক মাস পরে সে তালাক দিয়ে দিলে মেয়েটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মাঝে পড়বে। তাই সেই দিক বিবেচনা করে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ ৪লাখ টাকা সাবস্থ করেন।ভিকটিমের মামা নূরুল ইসলাম জানান, গ্রামের মেম্বার ও মাতাব্বরদের জন্য আমার ভাগ্নি সুষ্ঠু বিচার পেলো না।

ভিকটিম কলেজ ছাত্রী জানান, যে আমার সব ধ্বংস করছে, আমি তাঁকেই চাই। আমাকে কোটি টাকা দিলে লাভ কি? এখন আমায় কে গ্রহণ করবে। আপনারা রানাকে আমার সামনে আনেন, তিনি কি বলেন, আপনারাও শুনেন। আমি আর কিছুই চাই না, আমি শুধু রানাকেই চাই।

মেয়ের চাচা জামাল উদ্দিন জানান, আমরা তো গরিব মানুষ, জায়গা জমি নাই, মেয়ে আপোষ মিমাংসাতে রাজি না থাকলেও, মেয়ের মামারা ওদের সাথে চার লক্ষ টাকার বিনিময়ে আপোষ মিমাংসা হয়ে গেছে। জোর করে মেয়ের সাক্ষর নিয়েছে। জায়গা জমি না থাকায় মেয়ে ও তার বাবা’মা নানীর বাড়ীর জমিতে স্থায়ী ভাবে বসবাস করেন। ঘটনার পর থেকে মেয়ে প্রায় অচেতন অবস্থায় আছে।

ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম বিল্লাল জানান, ছেলেটি ঘটনার পর থেকেই পলাতক। ছেলেকে না পাওয়া গেলে আমরা এর কী ফয়সালা দিবো? মেয়ে এখন থানা অথবা কোর্টে মামলা করলে করতে পারে। সালিশে ৪লাখ টাকার ফয়সালার কথা তিনি অস্বীকার করেন।

ভালুকা মডেল থানার এস.আই জীবন বর্মণ জানান,মেয়েকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসার পর হাসপাতালে ভর্তি করাই। পরে মেয়ে ও তার পরিবার থানায় না এসে কোন প্রকার অভিযোগ না দিয়ে বাড়িতে চয়ে যায়। মেয়ে বা মেয়ের পরিবার অভিযোগ দিলে সব ধরনের আইনি সহযোগীতা প্রদান করতে আমরা প্রস্তুত।

ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন জানান, আমি পুলিশ অফিসার দিয়ে মেয়েটিকে থানায় এনে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছি। সেখান থেকে সে বাড়ি চলে গেছে। আমরা চেষ্টা করেছি তাকে দিয়ে অভিযোগ দেওয়ানোর জন্য কিন্ত সে অভিযোগ দিবে না।

Share.

Comments are closed.