Girl in a jacket

ভালুকায় গ্রামপুলিশের অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলের সাথে ৮ম শ্রেণীর ছাত্রীর বিয়ে!

0

স্টাফ রিপোর্টার, দিগন্তবার্তা,১৫ ফেব্রুয়ারী:-

ময়মনসিংহের ভালুকার পল্লীতে মফিজ উদ্দিন নামে এক গ্রামপুলিশের অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলের সাথে ৬ লাখ টাকা কাবিনের মাধ্যমে অস্টম শ্রেণীর ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১১ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের চামিয়াদী গ্রামের দক্ষিণপাড়ায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের চামিয়াদী গ্রামের উত্তর পাড়ার গ্রাম পুলিশ মফিজউদ্দিনের অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে সালমানের (২০) সাথে একই গ্রামের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে স্থানীয় কাতলামারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অস্টম শ্রেণীর ছাত্রী বৃষ্টির (১৪) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত ১১ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার বিকেলে বৃষ্টি সালমানের বাড়িতে গিয়ে উঠে। পরে পরিবারের লোকজন বৃষ্টিকে বুঝিয়ে তার বাবার বাড়ি পৌছে দিলেও বৃষ্টির চাচা সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে স্থানীয় কতিপয় লোক ছেলের বাবা ও তার আত্মীয়স্বজনদের ভয়ভীতি দেখিয়ে রাতেই ৬ লাখ টাকা কাবিন দিয়ে বিয়ের কাজ শেষ করা হয়।
ছেলের বাবা গ্রামপুলিশ মফিজউদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তার ছেলের সাথে বিল্লালের মেয়ে বৃষ্টির প্রেমের সম্পর্ক ছিলো তার তা জানা ছিলোনা। ওইদিন মেয়ে আমার বাড়িতে এসে উঠলে আমি চেয়ারম্যানকে ঘটনাটি জানাই। পরে চেয়ারম্যান মেয়েকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে বললে আমি বৃষ্টিকে বুঝিয়ে তাদের বাড়ি দিয়ে আসি। পরে সাবেক মেম্বার ও বৃষ্টির চাচা আব্দুল মালেকসহ সমাজের কতিপয় লোক আমাকে বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি দেখিয়ে রাতেই বিয়ে পড়ায় এবং তাদের মেয়েকে আমার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। তিনি আরো বলেন, বিয়ের সময় উথুরা ইউনিয়নের কাজি আব্দুস ছালামকে এনে ৬ লাখ টাকা কাবিন ও দুই লাখ টাকা ওয়াসিল হিসেবে কাবিননামায় উল্লেখ করা হয়। বিয়ের পরদিন সালমান ছেলে বউ বৃষ্টিকে নিয়ে পাশের কৈয়াদী গ্রামে তার নানা হাসেন আলীর বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যায়।
কনের বাবা বিল্লাল হোসেন তার অস্টম শ্রেণীতে পড়ূয়া মেয়ে বৃষ্টির বিয়ে হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তার মেয়ে যেহেতু বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে, তাই তাকে আমি বাড়ি উঠাবোনা। পরে তার চাচাতো ভাই সাবেক মেম্বার আব্দুল মালেক স্থানীয় প্রায় শতাধিক লোকের উপস্থিতিতে বিয়ের কাজ শেষ করে জামাই বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।
সাবেক মেম্বার আব্দুল মালেক জানান, বৃষ্টি তার চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে। গ্রামপুলিশ মফিজের ছেলে সালমানের সাথে বৃষ্টির বিয়ে হয়েছে শুনেছি। তবে তিনি ঘটনার সময় ছিলেন না বলে জানান।
স্থানীয় চেয়ারম্যান বজলুর রহমান তালুকদার জানান, বিল্লালের মেয়ে গ্রামপুলিশ মফিজ উদ্দনের বাড়ি গিয়ে উঠলে ঘটনাটি মফিজ আমাকে জানায়। আমি তাকে বলেছিলাম মেয়েকে তার অভিভাবকের কাছে পৌছে দিতে। পরে যে বিয়ে পড়ানো হয়েছে, তা আমাকে কেউ জানায়নি। তবে বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

Share.

Comments are closed.