Girl in a jacket

ভালুকায় করোনায় মোট আক্রান্ত ১৬১ : অধিকাংশই পোষাক কারখানার শ্রমিক

0

আসাদুজ্জামান ফজলু
ময়মনসিংহের ভালুকায় করোনাভাইরাসের সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। গত (১১জুন) বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উপজেলায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছেন ১৬১ জন। আক্রান্তদের মাঝে ৮৩ জনই কারখানার শ্রমিক এবং তাতে স্কয়ার ফ্যাশন নামক পোষাক কারখানার শ্রমিকই রয়েছেন ৪০ জনেরও বেশি। তাছাড়া অন্যান্য আক্রান্তরা হলেন, সরকারী হাসপাতালের ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্টাফ, উপজেলার স্টাফ, থানা, হাইওয়ে ও শিল্পপুলিশসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার লোকজন। তারমাঝে আক্রান্ত হয়ে একজন ও উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা সর্বশেষ এমন তথ্য জানান, উপজেলা প্রশাসন।
আক্রান্তের সংখ্যার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ৪ জুন থেকে উপজেলার গার্মেন্টগুলোতে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বেশ বাড়তে থাকে। ওই দিন তিনজন নারী করোনায় শনাক্ত হন। তিনজনই কারখানার শ্রমিক। পরেরদিন শুক্রবার উপজেলায় ১৯ জন শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যেও ৮ জন পোষাক কারখনার শ্রমিক। তারা সবাই উপজেলার মাস্টারবাড়ি এলাকায় অবস্থিত স্কয়ার ফ্যাশন কারখানায় কাজ করেন। পরের দিন শনিবার উপজেলায় ১১ জন শনাক্ত হয়েছেন। ৮ জন পোশাক কর্মী। তারাও এসকিউ, স্কয়ার ফ্যাশন, ক্রাউন ওয়ারস লিমিটেড ও সুলতানা সুয়েটারসহ অন্যান্য কারখানার শ্রমিক। গত রোববার শনাক্ত ২১ জনের মধ্যে ২০ জনই তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক। এক দিন পর মঙ্গলবার উপজেলায় সর্বোচ্চ ৩৫ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এদের মধ্যে ২৭ জন কারখানা শ্রমিক। উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬১ জনে। এর মধ্যে ৮৩ জনই কয়েকটি কারখানার শ্রমিক। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার কারখানার সংখ্যাও বাড়ছে।
উপজেলায় প্রথম কোভিট-১৯ এ সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয় ১৯ এপ্রিল । এরপর সংখ্যাটি ৫০ ছুতে সময় নেয় ৪৮ দিন। পরের মাত্র তিনদিনেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণে শনাক্ত হয়েছেন ৫১ জন। এর মধ্যে ৩৬ জনই পোষাককর্মী। আর পরের দু’দিনে শনাক্ত হয় ৫৩ জন। এদের মধ্যে ৪২ জনই কারখানা শ্রমিক। ঠিকানার অভাবে যোগাযোগ করা যায়নি তিনজনের সঙ্গে।
শ্রমিকদের আক্রান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে স্কয়ার ফ্যাশনের অ্যাডমিন ম্যানেজার মোঃ রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ঈদের সময়ে শ্রমিকেরা বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। ছুটি শেষে আবার যার যার কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। এই যাওয়া-আসার মধ্যে হয়তো কিছু শ্রমিক করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। এখন প্রতিদিনই পরীক্ষার মাধ্যমে তাদেরকে আলাদা করা হচ্ছে। তাই আক্রান্তের সংখ্যাটা বাড়ছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই এই সংখ্যাটা কমতে শুরু করবে। কারখানার ভিতরে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কাজ করানো হচ্ছে। স্কয়ার ফ্যাশনে সাড়ে ১১ হাজার শ্রমিক এর আগে দুই শিফটে কাজ করতো। এখান সেখানে ৬টি শিফটে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। আবাসিক দুই হাজার শ্রমিক রয়েছে। সেখানে কিন্তু একজন শ্রমিকও আক্রান্ত হয়নি। যে ৪০ জন শ্রমিক আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের সঙ্গে প্রতিদিন দুইবার করে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাসুদ কামাল জানান, উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬১ জনে। এর মধ্যে সুস্থ্য হয়েছেন ১০ জন। একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কারখানার ভিতরে শ্রমিকদের দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করানোর চেষ্টা করেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আসা-যাওয়ার পথে স্বাস্থ্যবিধি মানেননা শ্রমিকেরা। যার ফলে উপজেলার শিল্প কারখানাগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।

Share.

Comments are closed.