Girl in a jacket

ভালুকায় করোনার বন্ধেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিভাবকদের উপর বকেয়া বেতনের চাপ!

0

স্টাফ রিপোর্টার, দিগন্তবার্তা.কমঃ-
ময়মনসিংহের ভালুকায় করোনার এই দু:সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের বকেয়া বেতনের জন্য অব্যাহতভাবে চাপ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বেতন পরিশোধ করা না হলে ছাত্রত্ব বাতিলসহ নানাবিধ ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিভাবকরা জানান।
১৩ জুলাই ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদেরকে বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য বার বার তাগিদ দেয়া হচ্ছে। অস্টম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওই স্কুলের আব্দুল খালেদ নামে এক অফিস সহকারী বকেয়া বেতন পরিশোধ করার জন্য মোবাইল নম্বরে বার বার চাপ দেন এবং ব্যাংক রিসিট নিয়ে স্কুলে এসে রেজিস্ট্রেশন ফরমে স্বাক্ষর দেয়ার জন্য বলেন। পরে ১৩ জুলাই তিন মাসের ৯৯০ টাকা ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ভালুকা শাখায় জমা দিয়ে রিসিট নিয়ে আমার ছেলে ফরমে স্বাক্ষর করে আসে। অপর এক অভিভাবকও একই অভিযোগ করে বলেন, তিনি চার মাসের বকেয়া বেতন এক হাজার ৩২০ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে রিসিট নিয়ে ফরমে স্বাক্ষর করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক ক্ষোভের সাথে বলেন, ১৮ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও করোনারভাইরাসের এই দু:সময়ে তারা বেতন নিচ্ছেন স্বাভাবিক সময়ের মতোই।
ওই স্কুলের ভোকেশনাল সেকশনের শিক্ষক জিয়া উদ্দিন খান জানান, অস্টম ও নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বকেয়া বেতন আদায় করা হচ্ছে। তার সেকশনে ১২০ জন ছাত্র রয়েছে। কোন অভিভাবককে বেতনের জন্য চাপ দেয়া হয়নি।
স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক খন্দকার মোস্তাক আহমেদ জুয়েল বেতন নেয়ার কথা স্বীকার করে দৈনিক নয়া দিগন্তকে জানান, বিদ্যালয়ের আনুসঙ্গিক অনেক খরচ আছে, তাই অভিভাবকদের বলা হচ্ছে বেতন দেয়ার জন্য। তবে কোন ধরণের চাপ দেয়া হচ্ছেনা। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, তার প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।


উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জানান, মো: বজলুর রশিদ জানান, বেতন নিতে সরকারী ভাবে কোন নিষেধজ্ঞা নেই। কিন্তু করোনার এই সময়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন নেয়া উচিত নয়। ভালুকায় কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেতন নিচ্ছে বলে আমার জানা নেই। তবে যদি কেউ নিয়ে থাকে, তার বিরুদ্ধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো হবে।
ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ভালুকা শাখার ব্যবস্থাপক মো: মোস্তাফিজুর রহমান পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বকেয়া বেতন গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষ বেতন নিতে বলেছেন, তাই আমরা নিচ্ছি। তবে এই পর্যন্ত কতো শিক্ষার্থীর বেতন নেয়া হয়েছে, তা স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বলা যাচ্ছেনা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ কামালের সরকারী ও ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে বার বার চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।

Share.

Comments are closed.