Girl in a jacket

ভালুকায় এসএসসি পাস মানসিক রোগীর চিকিৎসক! পর্ব-১

0

স্টাফ রিপোর্টার, দিগন্তবার্তা:-

ময়মনসিংহের ভালুকার এক পল্লীতে এসএসসি পাস করে বাবার উত্তরসুরী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগের চিকিৎসা করে যাচ্ছেন শুব্রত কুমার সাহা ওরফে শিপু ডাক্তার নামে এক ব্যক্তি। বাবা জিতেন কুমার সাহা ছিলেন পাবনা মানসিক হাসপাতালের একজন ওয়ার্ডবয়। আর সে সুবাদেই তিনি প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে ইনজেকশন ও বিভিন্ন এন্টিবায়োটিক দিয়ে মানসিক চিকিৎসার নামে অবৈধ এই ব্যবসা করে হতদরিদ্রদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল অঙ্কের টাকা।
সরেজমিন ২৫ সেপ্টেম্বর শ্রক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টায় উপজেলার উথরা ইউনিয়নের খোলাবাড়ি গ্রামের সাহাপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, সিএনজি চালিত অটোরিক্সার দীর্ঘ লাইন। ডাক্তারের চেম্বারের পাশে একটি সিঙ্গারা ও চা এর দোকান। দোকানে ভীড় রোগীর স্বজনদের। প্রতি শুক্রবারই ভালুকা উপজেলা ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে দালালের মাধ্যেমে আসা অসহায় ও হতদরিদ্র শ্রেণীর প্রায় দুই শতাধিক রোগী দেখেন তিনি। তাছাড়া প্রতিদিনতো প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী দেখে থাকেন। স্থানীয় বেশ কয়েকজন ব্যক্তির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ শেল্টারে ডাক্তার শিপু তার এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে নিরিহ, অসহায়, অবলা ও হতদরিদ্র গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। তিনি তার বাড়ির পাশে একটি ঘর নির্মাণ করে চেম্বার করেছেন এবং নিজস্ব ঔষধের ফার্মেসীতে সহকারী নিয়োগ দিয়েছেন। ব্যবস্থাপত্র তিনি নিজেই লেখেন এবং তার লেখা সব ঔষধ নিজের ফার্মেসীতেই রাখেন। যদিও ভিজিট নেননি কিন্তু একজন রোগীর ইনজেকশন ও বিভিন্ন ঔষধসহ প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। এমনও রোগী আছেন মাসে দুইবার তার কাছে আসতে হয়। আর প্রতিবার তাকে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা দিতে হয়।

তাছাড়া স্থাণীয় উথুরা বাজারে অবস্থিত সৈয়দ ডায়াগনস্টিক এন্ড টেলিমেডিসিন সেন্টারের প্যাডে রোগীদের বিভিন্ন টেস্ট লিখে পাঠিয়ে দেন। আর ভূয়া ওইসব টেস্টের কমিশন কামিয়ে নেন। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এক যুবক মোটরসাইকেলের মাথায় ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্টিকার লাগানো অবস্থায় ডাক্তারের চেম্বার থেকে বের হয়ে যেতে। অর্থাৎ সিন্ডিকেট সৃষ্টি করে দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগী এনে চিকিৎসার নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিনব কৌশল। দুদু মিয়া নামে এক রোগীর হতভাগা পিতা জানান, তার বাড়ি পাশের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কিশোরগঞ্জে। বহু বছর ধরেই চিকিৎসা করছেন শিপু ডাক্তারের কাছে। তার কিশোরী মেয়ে রতœা আক্তার (১৯) এই ভালো, এই খারাপ। তিনি বলেন, আজও একটি ইনজেকশন ও অন্যান্য ক্যাপসুল ও ট্যাবলেটসহ শিপু ডাক্তার ঔষধের দাম নিয়েছেন দুই হাজার ১০০ টাকা।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শিপু ডাক্তারের শিক্ষাগত তেমন যোগ্যতা নেই বললেই চলে। তার বাবার ছিলেন পাবনা মেন্টাল হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়। আর ওই সূত্রেই অবৈধভাবে তিনি মানসিক রোগীর চিকিৎসা করে আসছেন বহুদিন ধরে। তিনি বিভিন্ন এলাকা থেকে দালালদের মাধ্যমে রোগী এনে হতদরিদ্র রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরাও খেয়েছেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে বার বারই পার পেয়ে যাচ্ছেন এবং আবারো অবৈধ এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ ব্যাাপারে কথা বলার জন্য অনেক চেষ্টা করে সাক্ষতের সুযোগ হয় কথিত শিপু ডাক্তারের সাথে। কিন্তু বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরই তিনি এড়িয়ে যান এবং বলেন, তারিখ দিয়ে আসবেন। পরে এলাকার বেশ কয়েকজন মোবাইলে এই প্রতিবেদককে এ ব্যাপারে নিউজ না করার জন্য বার বার সুপারিশ করেন।

Share.

Comments are closed.