Girl in a jacket

ভালুকায় একদিকে বনভূমি উদ্ধার, অপরদিকে দখলকৃত ভূমিতে সিমাণাপ্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ

0

স্টাফ রিপোর্টার, দিগন্তবার্তাঃ-

ময়মনসিংহের ভালুকায় একদিকে বেদখলীয় প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের বনভূমি উদ্ধার করে চারা রোপণ আর অপরদিকে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বনভূমি দখলে নিয়ে কালো জাল দিয়ে ঢেকে সিমাণাপ্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা দু’টি একই মৌজার উপজেলার আখালিয়া ও মামারিশপুর গ্রামে। দখলকৃত জমিতে প্রাচীর নির্মাণের খরর পেয়ে বনবিভাগের লোকজন নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখান জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বলে স্থানীয় বনবিভাগ জানান।
বনবিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভালুকা রেঞ্জের ধামশুর মৌজার ১২০৭ নম্বর দাগে দীর্ঘদিন পূর্বে আখালিয়া গ্রামে ২০ কোটি টাকা মূল্যের ৭ একর ৪৯ শতাংশ বনভূমি ডেল্টা সিরামিক্স লিমিটেড দখল করে। পরে বনবিভাগ মামলা করলে উচ্চ আদালত বনবিভাগের পক্ষে রায় দেন। পরে ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার ময়মনসিংহ (দক্ষিণ) সহকারী বন সংরক্ষক আবু ইউসুফের নেতৃত্বে দিনব্যাপী উদ্ধার হওয়া বনভূমিতে এক হাজার ৭০০ আকাশমনি গাছের চারা রোপণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ভালুকা রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন, হবিরবাড়ি বিট কর্মকর্তা মোঃ দেওয়ান আলী, কাদিগড় বিট কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম, মল্লিকবাড়ি বিট কর্মকর্তা মোস্তাাফিজুর রহমান, ও হাজির বাজার বন ক্যাম্পের ইসচার্জ মোস্তাফিজুর রহমানসহ সকল বিটের স্টাফ বাগান সৃজনে অংশ নেয়।
অপরদিকে খোঁজ নিয়ে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানান গেছে, উপজেলার মামারিশপুর গ্রামের মধ্যপাড়ায় ধামশুর মৌজার ২৮৬, ২৮৭, ৩০৪ ও ৩০৫ নম্বর দাগে বনবিভাগ ও খাস খতিয়ানের প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের জমি দখলে নিয়ে সীমাণাপ্রাচীর নির্মাণ করছেন ঢাকার জনৈক রাবিয়া মাকসুদ নামে এক প্রভাবশালী। জানা গেছে, গোলাম মৌলা বাবু নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে কালো রংয়ের জাল দিয়ে ঢেকে সীমাণা প্রাচীর নির্মাণ করছেন। স্থানীয়রা জানান, গোলাম মৌলা বাবু হলেন, রাবিয়া মাসুদের ভাই এবং তার নেতৃত্বেই বন বিজ্ঞপ্তিত ২৮৬ ও ২৮৭ নম্বর দাগে ১২ কাঠা জমি দখলে নিয়েছে। তাছাড়া ৩০৫ দাগে মোট রয়েছে ২ একর ৫ শতাংশ, তার মাঝে রেকর্ড রয়েছে, এক একর ৫৫ শতাংশ এবং ৫০ শতাংস এক নম্বর খাস খতিয়ানভূক্ত। ওই ৫০ শতক খাস জমিও নির্মাণাধিন সিমাণাপ্রাচীরের ভেতর রয়েছে। এ ব্যাপারে গোলাম মৌলা বাবু বলেন, তাদের কাগজপত্র ঠিক আছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ম্যাডামের মোবাইল নম্বর দিতে নিষেধ রয়েছে।
ভালুকা রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন ও স্থানীয় হাজিরবাজার বন ক্যাম্পের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বনভূমি দখলকারী ডেল্টা সিরামিক্সের বিরুদ্ধে মামলা করার পর বনবিভাগের পক্ষে উচ্চ আদালতের রায় আসায় ওই জমিতে গাছের চারা রোপন করা হয়েছে। অপরদিকে মামারিশপুর গ্রামে সীমাণাপ্রাচীর নির্মাণের ব্যাপারে দুই কর্মকর্তা বলেন, নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য গোলাম মৌলা বাবুকে বলা হয়েছে এবং নক্সা ও কাগজপত্র নিয়ে সরেজমিন মাপামাপির পর জমিতে যদি বনবিভাগের দাবি না থাকে তবে কাজ করতে কোন বাঁধা নেই।

Share.

Comments are closed.