Girl in a jacket

ভালুকায় আমন ধানে পোঁকার আক্রমণ

0

স্টাফ রিপোর্টার, দিগন্তবার্তা:

-ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার সর্বত্রই উঠতি আমন ধানে বাদামী ঘাস ফরিং, মাজরা, মাইজকাটা ও পাতা ঝলসানো পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কৃষকরা বাজার থেকে কিনে যে সকল কিটনাশক ব্যবহার করছেন তাতে কোন কাজই হচ্ছেনা বলে অভিযোগ রয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ সার্বক্ষনিক মাঠে গিয়ে অবস্থা পর্যবেক্ষণের নিয়ম থাকলেও বিভিন্ন বøকের আশপাশের বাজারে কিটনাশনের দোকানে বসে থেকে চলে যান বলে কৃষকদের অভিযোগ। অনেকে কৃষকই কৃষি অফিসারকে চিনেন না বলে জানান। ফলে সময়মতো ক্ষেতে প্রয়োজনীয় কিটনাশক বা ঔষধ দিতে না পারায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি আমন মওসুমে ব্যাপকভাবে বাদামী ঘাস ফরিং, মাইজকাটা , মাজরা ও পাতা ঝলসানো পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের মাঝে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের মাস্টারবাড়িমোগ এলাকার কৃষক মফিজ উদ্দিন জানান, তিনি ৮ কাঠা জমিতে আমন ধান করেছেন। ধানে থোর হওয়া শুরু করেছে কিন্তু পোকায় আক্রমণ করায় স্থানীয় এক ডিলারের কাছ থেকে দুইবার কিটনাশক কিনে ব্যবহার করেও কোন ফল পাচ্ছেননা। কৃষি অফিসার ১৫ দিন আগে এসেছিলো। ওই কৃষি অফিসার কোম্পানীর ঔষুধের প্রচারের জন্য আমাকে দিয়ে ‘এমিস্টার টপ’ নামক কিটনাশকের লেভেল ক্ষেতে বাঁশের খুঁটিতে বেঁধে টানিয়ে রাখার জন্য বলেন এবং ২/৩ দিন পর এসে আমাকে পোকা দমনের ঔষধ দেয়ার কথা, কিন্তু ১৫ দিন পার হলেও তিনি আর আসেনসি। একই এলাকায় পারভেজ নামে এক যুবক তার ক্ষেতে নিজেই কিটনাশক ছিটাচ্ছেন। তিনি বলেন, তার ৮ কাঠা জমির প্রায় সব জায়গাতেই ফরিং জাতীয় পোকা আক্রমণ করেছে। স্থানীয় চৌরাস্তা বাজারের মোজাম্মেল ডিলারের দোকান থেকে কিটনাশ কিনে তা ছিটাচ্ছেন। কৃষি অফিসার কে, তা তিনি চিনেননি বলে জানান।
তাছাড়া একই এলাকার ডাকাতিয়া পশ্চিম পাড়ার স্থাণীয় মেম্বার মিজান ও তার ভাই সোহরাবের তিন একর জমিতে স্বর্ণা জাতীয় ধান চাষ করেছেন এবং তাদের বেশিরভাগ ক্ষেতেই পোকা আক্রমণ করেছে বলে জানা গেছে। কৃষক সফিকুল ইসলাম জানান, তিনিও স্বর্ণা জাতের ৪০ কাঠায় আমন ধান করেছেন। কৃষি অফিসার কোনদিনই এলাকায় আসতে দেখেননি বলে জানান। ফজল তালুকদারের দুই একর জমিতে ব্যাপকভাবে পোকায় আক্রমণ করেছে বলে জমির মালিক জানান। তিনবার কিটনাশক দিয়েও কোন ফল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন। ডাকাতিয়া দক্ষিণ পশ্চিমপাড়ার নুরু মিয়ার ১০ কাঠা জমিতে আমন ধান করেছেন। ধানে পঁচন রোগ ধরায় তিনি নিজেই ক্ষেতে কিটনাশক স্প্রে করছেন। একই গ্রামের আব্দুল হামিদ জানান, তার ১৬ কাঠা জমিতে আমনের চাষ করেছেন। তার ধানে মাঝপোকায় আক্রমণ করেছে। তাছাড়া কৃষক এলাহীর ১০ কাঠা, ইব্রাহীমের ৬ কাঠা, ঠান্ডুর ৭ কাঠা জমিতে আমনের চাষ করেছেন। তারা ছাড়াও বহু কৃষক অভিযোগ করেন তাদের ক্ষেতে পোকা আক্রমণের বিষয়টি। কৃষি অফিসার এলাকায় না আসার কারণে স্থাণীয় কিটনাশকের দোকান থেকে দোকানীর পরামর্শেই তারা ক্ষেতে বিষ দিয়ে তেমন ফল পাচ্ছেন না বলে জানান। খোঁ নিয়ে জানা গেছে, ডাকাতিয়া ইউনিয়নসহ উপজেলার কাচিনা, মেদুয়ারী, বিরুনীয়া, রাজৈ, হবিরবাড়ি, ভরাডোবা, মল্লিকবাড়ি, ভালুকা সদর, উথুরা ইউনিয়নের অনেক জায়গাতেই আমন ধান ক্ষেতে বিভিন্ন ধরণের পোকা আক্রমণ করেছে।
ডাকাতিয়া ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্যা আল মাসুদ জানান, আমি সথাসধ্য চেষ্টা করছি কৃষকদের সাথে যোগাযোগ রেখে তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জেসমিন নাহার পোকায় আক্রমণের কথা স্বীকার করে বলেন, ডাকাতিয়া ইউনিয়নে তিনজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও অফিসার না থাকায় একজন দিয়েই চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। তাই সব স্থানে একার পক্ষে দেখাশুনা করা সম্ভব হয়ে উঠছেনা।

Share.

Comments are closed.