Girl in a jacket

ভালুকার চাঁন্দের বাজারে ৩৫ টাকার পন্য ৮০ টাকা বিক্রির অভিযোগ এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে

0

দিগন্তবার্তা ডেক্স:- ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের চাঁন্দের বাজারে বাবুল স্টোরের মালিক বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে ৩৫ টাকার পন্য ৮০ টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।এর আগেও ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সরকারী ১০ টাকা মূল্যের চাল ও লবণ কেলেঙ্কারীসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে চাল কেলেঙ্কারীর দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানাও গুণতে হয়েছিলো।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চান্দের বাজারের বাবুল স্টোরের মালিক বাবুল মিয়ার কাছ থেকে ৮ আগস্ট সেখ ফরিদ নামে স্থানীয় এক লোক তরল পানীয় কিনতে যান। এসময় বাবুল মিয়া অস্কার নামে এক বোতল পানিয় দেন এবং ১০০ টাকার নোট দেয়া হলে ক্রেতাকে ২০ টাকা ফিরিয়ে দেন।পরে যখন বোতলের গায়ে ৩৫ টাকা দেখতে পান, তখন ক্রেতা ফরিদ মিয়া বিষয়টি বাবুলের জানতে চান। তখন বাবুল মিয়া জানান, বোতলের গায়ে ৩৫ টাকা লেখা থাকলেও ওটা ৮০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা বিক্রি হয়ে থাকে।কারণ বাজারে এই পন্যটির চাহিদা অনেক।

ক্রেতা ফরিদ মিয়া জানান, ৩৫ টাকার বোতল ৮০ টাকা নেয়ার পর বাজারে এনিয়ে হৈচৈ শুরু হলে বাবুল মিয়া আমাকে ৮০ টাকায় ফেরত দিয়ে বলেন, বিষয়টি তার ভুল হয়েছে এবং টাকা ছাড়াই আরো কিছু পানীয় ফ্রিতে দেন খাওয়ার জন্য। তাছাড়া ওই বাজারের সেলুনের ব্যবসায়ী ফজলু মিয়া ও স্থানীয় মনু মিয়ার জামাই হেলালসহ অনেকের কাছেই এসব পন্য বেশি দামে বিক্রি করেছেন বাবুল মিয়া।

স্থানীয় ঔষধ ব্যবসায়ী শাহজাহান সিরাজি জানান, বাবুল মিয়া বহু পন্যই অন্যান্য দোকানদারের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করে থাকেন প্রতিবাদ করলে ওইর বড় ভাই জালাল, ভাতিঝা নুরুল ইসলাম ও নাতিন হাফিজুলের ছেলে বিল্লাল হোসেনসহ তাদের কতিপয় লোক মারমুখি হয়ে তেড়ে আসে। বাবুল সরকারী ১০ টাকা মূল্যের চাল কেলেঙ্কারীর সময় ধরা খাওয়ার পর রহস্যজনক কারণে আমার উপর হামলা করার পাঁয়তারা করছিলো। পরে আমি থানায় সাধারণ ডায়রী করতে বাধ্য হয়েছিলাম।তিনি আরো জানান, বাবুল প্রথমে যখন চান্দের বাজারে আসেন, তখন তিনি সাইকেল রিক্সার মেকারী করতেন। একটা হাতুরে ও প্লাস নিয়ে এই বাজারে আসেন। পরে তিনি মেকারী বাদ দিয়ে মনোহারী ব্যবসা শুরু করেন।রাতারাতি তিনি কোটি টাকার মালিক কি করে হলেন?তিনি আরো বলেন,   

যার নিজের কোন টাকা পয়সা এবং কোন অর্থ সম্পদ বলিতে কিছুই ছিলোনা।প্রথমে সে লোকের চোখে ধরা পরে ১০ টাকা কেজি সরকারী চাউল ডিলারের কাছ থেকে কেনার পর। তার দোকান থেকে ১৭ বস্তা ১০ টাকা সরকারী চাউল ভালুকা মডেল থানা পুলিশ উদ্ধার করে নেয়। পরে ভ্রাম্যমানে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।এরপর,কিছুদিন পরে হাতীবেড় কুমির প্রজেক্ট থেকে কুমিরের চামড়ায় ব্যব্হারিত পরিত্যক্ত লবন কম দামে কিনে এই লবন বস্তা করে গরুর খাওয়া লবন হিসাবে এলাকার বিভিন্ন লোকজনের কাছে বেশী মূল্যে বিক্রয় করেছে। যে,লবন গভাবাদি পশুকে খাওয়ানো সমপূর্ন নিষেধ ছিলো।এই লবন বাবুল দোকানদারের কাছ থেকে কিনে স্থানীয় আহাম্মদ আলীর এক বকনা গাভীকে খাওয়াইলে বকনা গাভীর ক্ষতি হয়।পরে এই বিষয়টি দামা চাপা দেওয়া হয়।কিছুদিন পূর্বে যখন সরকার সারা দেশে লবনের উপর অভিযান শুরু করেন।তখন এই বাবুলের দোকানেও ভালুকার বর্তমান এসিলেন্ট স্যার অভিযান করে।অনিয়ম থাকা সত্বেও পরে মাননীয় এমপি সাহেব এর ছেলের সুবারিশ ক্রমে এসিলেন্ট স্যার তাহাকে ক্ষমা ভাল ভাবে দিক নির্দেশনা দিয়ে যান।এরপর এখন আবার কিছু দিন যাবত,বিভিন্ন দ্রব্য এল্যকোলাহল জাতীয় পানি মূল্যের চেয়ে ডাবল দামে লোকজনের কাছে বিক্র করে আসছেন। কোন লোক প্রতিবাদ করার মতো সাহস পাচ্ছেনা।কেউ করিলে বা প্রশাসনের লোকজনকে অবগত করিতে চাইলে তাহাকে প্রান নাশের হুমকি দিয়া হয়ে থাকে।

অভিযুক্ত বাবুল স্টোরের মালিক ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া ৩৫ টাকার পানীয় ৮০ টাকা বিক্রির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওটা আমার ভুল হয়েছিলো।পরে ক্রেতা ফরিদ মিয়াকে ৮০ টাকাই ফেরত দিয়ে দিয়েছি।

বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারী এসাহাক ডাক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যদের নিয়ে বসে সমাধান করার চেষ্টা করবো।

Share.

Comments are closed.