Girl in a jacket

বিয়েতে প্রেমিকের অস্বীকৃতি : গায়ে কেরোসিন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা কলেজ ছাত্রীর

0

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কাশর দক্ষিণপাড়া গ্রামে মঞ্জুরুল ইসলাম রানা নামে এক প্রেমিকের বাড়িতে ১ জুলাই বুধবার বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন এক কলেজ ছাত্রী। পরে কৌশলে প্রেমিকের পবিরারের লোকজন তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করলে খবর পেয়ে মডেল থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে মেয়েটি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু চিকিৎসা নেয়ার পর বিচার না পাওয়ায় হাসপাতাল থেকে ২ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ বাড়িতে গিয়ে গায়ে কেরোসিন দিয়ে আত্মহত্যা চেষ্টা করে ওই ছাত্রীটি।
কলেজ ছাত্রীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের কাশর উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত চাঁন মিয়া ওরফে চান্দু মেম্বারের ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম রানার সাথে পার্শ্ববর্তী শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া উত্তরপাড়া গ্রামের অনার্স পড়ূয়া ছাত্রীর দীর্ঘ চার বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এমনকি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে লম্পট মঞ্জুরুল ইসলাম রানা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়ের পরিবার ঘটনাটি ছেলের পরিবারকে জানান। কিন্তু বিষয়টি ছেলের পরিবার তাদের এই সম্পর্ক মেনে নিতে রাজি না হওয়ায় ১ জুলাই বুধবার ওই ছাত্রী ছেলের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবীতে অনশন শুরু করেন। কিন্তু প্রভাবশালী ছেলের পরিবার মেয়েকে কৌশলে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করলে খবর পেয়ে মডেল থানা পুলিশ মেয়েকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে মেয়েটি অসুস্থ্য হয়ে পড়ায় ভালুকা ৫০ শয্যা সরকারী হাসপাতালে ভর্তি হন। এদিকে বিচার না পাওয়ায় হাসপাতাল থেকে নিজ বাড়িতে গিয়ে ২ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে গায়ে কেরোসিন দিয়ে আত্মহত্যা চেষ্টা করে ওই ছাত্রীটি।
ভিকটিম ওই কলেজ ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, মঞ্জুরুল ইসলাম রানার সাথে তার চার বছরের সম্পর্ক। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সে আমার সাথে বহুবার দৈহিক মিলন ঘটিয়েছে। কিন্তু সে এখন আমাদের প্রেমের সম্পর্ক অস্বীকার করছে এবং বিয়ে না করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে তার বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করি। পরে কৌশলে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে চাইলে পুলিশ এসে আমাকে থানায় নিয়ে যায় এবং কিছুটা অসুস্থ্যবোধ করায় আমাকে ভালুৃকা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বলা হয়। পরে কিছুটা সুস্থ্য হওয়ার পর থানায় অভিযোগ দেয়া হলেও ছেলে পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় আমার অভিযোগটি আমলে নেয়া হয়নি। বর্তমানে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু লোক তার পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মঞ্জুরুল ইসলাম রানার সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় তার মামাতো ভাই হারেজ মিয়ার মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে তিনি জানান, শুনেছি ঘটনাটি মিমাংশা হওয়ার পথে।
ভালুকা মডেল থানার এসআই জীবন চন্দ্র বর্মণ জানান, মেয়েকে ছেলের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসার পর অসুস্থ্যতার কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করাই। কিন্তু মেয়ে ও তার পরিবার থানায় অভিযোগ না দিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে চয়ে যায়। পরে ২ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে শ্রীপুরে মেয়ের বাড়ি গিয়ে তার পরিবারকে আইনি সহযোগীতার আস্বাস দিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ বলেন।

Share.

Comments are closed.