Girl in a jacket

নান্দাইলে ত্রাণসামগ্রী না পেয়ে সাত সন্তানের আহার যোগাতে প্রাণ গেল হতদরিদ্র শাহিদার

0

 নান্দাইল থেকে স্টাফ রিপোর্টার

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বীর বেতাগৈর ইউনিয়নে সাত সন্তানের আহার যোগার করতে গিয়ে প্রাণ গেল জনৈক আল আমিনের স্ত্রী শাহিদা আক্তারের। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, শাহিদার স্বামী আল আমিন একজন দিনমজুর। শাহিদাও অন্যের বাড়িতে কাজ করতো। মহাদূর্যোগ করোনা পরিস্থিতিতে স্বামী স্ত্রী দুজনেই কর্মহীন হয়ে পড়ায় নিদারুন কষ্টে পড়েন সাত সন্তান নিয়ে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হলেও শাহিদার পরিবারে তা জোটেনি। সন্তানরা উপোস, আর তাদের আহার যোগানোর কথা চিন্তা করে শাহিদা চলে যান গাজিপুরে। সেখানে শাহিদা মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কিছু টাকা যোগার করে সন্তানদের মূখে হাসি ফুটাতে বাড়ির দিকে রওনা হন। বাড়িতে কিভাবে ফিরবেন?  লকডাউনে যানবাহন চলাচল একেবারেই বন্ধ কিন্তু মানছে না উদরের সাত সন্তানের উপোসের কথা মনে করে, বুক ছটফট করে উঠছে শাহিদার। সে ভাবনা ভেবেই বাড়ির দিকে ছুটেছেন  ছোট যানে ভেঙ্গে ভেঙ্গে। ২২ মে অটো রিক্সা যোগে এগুতে থাকলো শাহিদা। ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের জৈনবাজারে আসামাত্রই নিজের গলার ওড়না অটো রিক্সাযর চাকার সাথে প্যাচিয়ে মাটিতে লুটে পড়ে মারাত্বক জখম হন এবং সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে। সরকারি  বেসরকারি কোনো ত্রাণ না পেয়ে দিন কয়েক আগে  উস্মাত প্রকাশ করেছিলো শাহিদা! যা কিনা উৎসুকরা ভিডিও করেছিল। পরবর্তী সময় তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশও পেয়েছিলো। টাকার অভাবে স্বামী আল আমিন শাহিদার লাশটি নিজ বাড়িতে নিয়ে আসতে পারেন নাই। গফরগাঁও শাহিদার বাবার বাড়িতেই তাকে দাফন করা হয়। স্থানীয়ভাবে জনমনে প্রশ্ন?? স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও এলাকার সমাজসেবী ব্যক্তবর্গ কেউ কি এখবর জানতেন না? পরিবারটি কি বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপে ছিল? শাহিদার এ মৃত্যুর জন্য কে দ্বায়ী? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনার এই মহাদূর্যোগে একজন মানুষও যেন,  না খেয়ে থাকে এমন সতর্ক বাণী দিয়েছিলেন প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও তার দলীয় নেতাকর্মীদেরকে। শাহিদার এমন মৃত্যুর খবর শুনে ইউএনও আব্দুর রহিম সুজন দৌড়ে গেলেন কিছু ত্রাণ নিয়ে এবং পরিবারটিকে দেখবালের দ্বায়িত্ব গ্রহনের প্রতিশ্রতিও দিয়েছেন।
 এখন কথা হলো, সাত সন্তান কি তার মায়ের আদর সোহাগ ফিরে পাবেন? এ ঘটনায় সমাজ তার দ্বায়বদ্ধতা কি এড়াতে পারবে? সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি তার দ্বায়বদ্ধতার ব্যাপারে সচেতন হতো এবং নিজেকে কর্তব্যপরায়ণ মনে করতো  তাহলে সন্তানদের আহার যোগাতে শাহিদার প্রাণ ঝড়তো? ইসলামের স্পষ্ট বিধান তুমি উদরভর্তি করবা আর  প্রতিবেশী উপোস থাকবে তা ইসলামে কখনো গ্রহনযোগ্য না। প্রতিবেশীর খোঁজখবর নেয়া প্রতিবেশীদের নৈতিক দ্বায়িত্ব।

Share.

Comments are closed.