Girl in a jacket

গফরগাঁওয়ের আন্ধাপুরি খাল খননে কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আশা কৃষকদের

0

এম, কামরুজ্জামান (লিটন) গফরগাঁও :-
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আন্ধাপুরি খাল খনন সম্পন্ন হলে এলাকায় কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে। প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে আসবে কৃষকদের মাঝে। পরিকল্পিতভাবে খালের দুই পাড়ে সুসজ্জিত বৃক্ষ রোপনের ফলে এলাকাটি হবে দৃষ্টি নন্দন। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এর প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা ও এলাকার কৃষকরা এমনটিই আশা করছেন। ইতিমধ্যে প্রকল্পের কাজ প্রায় ৭০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিদিনই উৎসুক কৃষক-কৃষাণীরা বিশেষ করে দূরন্ত কিশোরের দল খালপাড়ে জড়ো হয়ে ভারী যন্ত্রপাতির খাল খনন কাজ উপভোগ করছে।
গফরগাঁও উপজেলার আন্ধাপুরি খালটি সালটিয়া ইউনিয়নের আন্ধাপুরি বিল হতে উৎপত্তি হয়ে রৌহা, পুকুরিয়া, দৌলতপুর ও বখুরা মৌজার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যশরা ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে শিলা নদীর সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে। খালটি পলি দ্বারা ভরাট ছিল। এছাড়া উভয় পাড়ে দখল দারিত্বের কারণে সংকোচিত হয়ে খানটি অস্তিত্ব হারাতে বসেছিল। এর ফলে বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি বা ভারি বর্ষণের ফলে আন্ধাপুরি বিল, নওল্লা বিল, পাকাটি বিল, দমদমিয়া বিল, দৌলতপুর বিল, কালাই শিংগার বাইত বিলসহ আরো ৩-৪টি ছোট বড় বিল ও খালের দুপাশের প্রায় ৫০০০ হেক্টর জমির বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যেত। এসব আবাদি জমি বছরের অধিকাংশ সময় জলাবদ্ধতার পানিতে নিমজ্জিত থাকার কারণে কৃষকরা বছরে একটির বেশি ফসল ফলাতে পারতেন না। এ অবস্থায় খালটি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেয় ময়মনসিংহ বিএডিসি সেচ বিভাগ। খানটি পুন:খননের জন্য গত ২০২০-২১ অর্থ বছরে চল্লিশ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ময়মনসিংহ-১০ (গফরগঁাও) আসনের সংসদ সদস্য ফাহ্মী গোলন্দাজ বাবেল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে খালটির পুন:খনন ও সংস্কার কাজ উদ্বোধন করেন।
ময়মনসিংহ বিএডিসি’র সহকারী প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান জানান, ড্রইং-ডিজাইন মোতাবেক প্রায় ৩০ ফুট প্রস্থ ও ৪ কিলোমিটার দৈঘ্য খালটির পুন:খনন কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এস্কাভেটর দ্বারা খাল পুন:খনন করা হচ্ছে এবং একইসাথে খালের পাড় লেভেলিং ও ড্রেসিং কাজ চলছে। ড্রইং, ডিজাইন ও সিডিউল মোতাবেক পুন:খনন কাজ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বিএডিসি’র সংশ্লিষ্ট পরিদর্শন কমিটি।
ময়মনসিংহ বিএডিসি’র সেচ বিভাগের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মুহম্মদ বদরুল আলম জানান, বৃষ্টির পানি মাঠ হতে খালে নির্গমনের জন্য পাড়ের নিচ দিয়ে আউটলেট নির্মাণ করা হবে এবং খালের দুই পাড়ে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হবে। এতে এলাকাটি দৃষ্টি নন্দন হবে। কৃষকরা মনের আনন্দে ফসল ফলাবে। কাজের বিরতির সময় খাল পাড়ে গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নেবে।
এদিকে এই প্রকল্পে এলাকার কৃষকেরাও বেজায় খুশি। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে যথা সময়ে বোরো ধান ঘরে তুলতে পারবেন এবং এসব জমিতে বছরে দুই-তিনটি ফসল উৎপাদন করতে পারবেন বলে কৃষকরা আশা প্রকাশ করছেন। ময়মনসিংহ জেলা বিএডিসি সেচ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রনি সাহা বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এলাকায় কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে। খাল ভরা পানি থাকলে মাঠ ভরা ফসল থাকবে। কৃষকদের মুখে হাসি ফুটবে। আবহমান বাংলার চির চেনা সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা সবুজ প্রকৃতি আবার ফিরে আসবে।
গফরগাঁও উপজেলা বিএডিসি সেচ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. তানভীর হাসান বলেন, খালটি উম্মুক্ত হলে এলাকার শত শত একর আবাদি জমি জলাবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষা পাবে। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করার চেষ্টা করছি। প্রতিদিনই প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত থেকে নিবিড়ভাবে কাজ পরিদর্শন করছি। ইতিমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ভূ-উপরিভাগের পানির ব্যবহার বাড়বে এবং ভূ-গর্বস্থ পানির ব্যবহার বা অপচয় কমবে। এতে প্রাকৃতিক ভারসাম্যও বজায় থাকবে।

Share.

Comments are closed.